SPORTS: ডার্বির আগে বিরাট সমস্যায় ইস্টবেঙ্গল, জেনেনিন মোহনবাগানের কী অবস্থা?

কলকাতা লিগের বহু প্রতীক্ষিত ডার্বি শনিবার, এবং মরসুমের প্রথম এই বড় ম্যাচকে ঘিরে শহর জুড়ে টানটান উত্তেজনা। এই মর্যাদার লড়াইয়ে নামার আগে দুই প্রধানের পরিস্থিতি ভিন্ন। লিগে পারফরম্যান্সের বিচারে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও, ইস্টবেঙ্গল এবার সিনিয়র দলের উপরই ভরসা রাখছে, অন্যদিকে মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট মাঠে নামবে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে।
চলতি কলকাতা লিগে ইস্টবেঙ্গল এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ধুঁকছে, এবং ডার্বির আগে শেষ ম্যাচে হেরে মাঠে নামছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। এই প্রেক্ষাপটে, রিজার্ভ দল নিয়ে লিগ খেললেও, পরপর তিন ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর লাল-হলুদের রিজার্ভ দলের কোচ বিনো জর্জ সিনিয়র স্কোয়াড থেকে খেলোয়াড় চেয়েছেন। প্রভাত লাকড়ার মতো সিনিয়র দলের সদস্যকে ইতোমধ্যেই রিজার্ভ দলের জার্সিতে দেখা গেছে। জেসিন টিকে, তন্ময় দাস, সুমন দের মতো ফুটবলাররাও এখন সিনিয়র দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন।
ডার্বির জন্য ইস্টবেঙ্গল তাদের সঙ্গে আরও ছয় সিনিয়র ফুটবলারকে কলকাতা লিগের দলে নথিভুক্ত করিয়েছে। তারা হলেন দেবজিৎ মজুমদার, ডেভিড লালহানসাঙ্গা, এডমুন্ড লালরিনডিকা, মার্তণ্ড রায়না, লালরামসাঙ্গা এবং মার্ক জোথানপুইয়া। এর মধ্যে রামসাঙ্গা ও মার্ক বৃহস্পতিবার রিজার্ভ দলের অনুশীলনেও অংশ নিয়েছিলেন। দেবজিৎ, ডেভিড, এডমুন্ড ও মার্তণ্ড বুধবার ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে লাল-হলুদের প্রথম একাদশে থাকায় এদিন ছুটি পেয়েছিলেন; তবে শুক্রবারের শেষ প্রস্তুতিতে তাদের দেখা যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে পিভি বিষ্ণুকেও ডার্বির আগে দলে নথিভুক্ত করার ভাবনা ছিল, কিন্তু ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে চোট পাওয়ায় তিনি আপাতত মাঠের বাইরে। কোচ বিনো কেরল থেকে আশিক নামে একজন স্ট্রাইকার আনলেও, ডার্বির আগে তাকে স্কোয়াডে নথিভুক্ত করা হয়নি।
অন্যদিকে, মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট লিগে পাঁচ ম্যাচে দশ পয়েন্ট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। সবুজ-মেরুন জার্সিও সিনিয়র দলের কয়েকজনকে দেখা যেতে পারে এই ডার্বিতে। কিয়ান নাসিরি, সুহেল ভাট, দীপেন্দু বিশ্বাস, গ্লেন মার্টিন্স এবং অভিষেক সূর্যবংশীর নাম লিগের দলে নথিভুক্ত করিয়েছে মোহনবাগান। কিয়ান, সুহেল, দীপেন্দু ও গ্লেন গত সপ্তাহখানেক ধরেই রিজার্ভ দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন, যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো লিগ ম্যাচ খেলেননি। অভিষেক অবশ্য বৃহস্পতিবার সিনিয়র দলের সঙ্গেই অনুশীলন করেছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এবার কলকাতা লিগের এই বহু প্রতীক্ষিত ডার্বি পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন ভিনরাজ্যের রেফারি। এটি ম্যাচের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে এই মৌসুমের প্রথম বড় লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে ফুটবলপ্রেমীরা।