আলিপুরদুয়ারে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হেনস্থা: অবশেষে গ্রেফতার অভিযুক্ত, কাঠগড়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

আলিপুরদুয়ার জেলার এক সরকারি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের যৌন হেনস্তার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হলো অভিযুক্ত ভূগোলের শিক্ষককে। বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) সকালে তার বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয় এবং পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই ঘটনা জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে হেনস্থা, কর্তৃপক্ষের নিস্পৃহতা
জানা গেছে, গত বেশ কয়েক মাস ধরে ভূগোলের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস চলাকালীন স্কুলের ছাত্রীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্বারা বারবার শারীরিক হেনস্তার শিকার হচ্ছিল। পরিস্থিতি যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন ছাত্রীরা তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও, অভিযোগ উঠেছে যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আশ্চর্যজনকভাবে উপেক্ষা করে যায় এবং কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
কয়েকজন ছাত্রী আরও অভিযোগ করেছে যে, অভিযুক্ত শিক্ষক তাদের চুপ করানোর জন্য পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতেন। এমনকি, কয়েক সপ্তাহ আগে বেশ কয়েকজন ছাত্রী একজন শিক্ষিকাকেও এই বিষয়টি জানিয়েছিল, কিন্তু তারপরও স্কুলের তরফে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির তৎপরতায় গ্রেফতারি
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা বিষয়টি জেলা শিশু কল্যাণ কমিটিকে (CWC) জানান। অভিযোগ পেয়ে জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির সদস্যরা অবিলম্বে ওই বিদ্যালয়ে তদন্তে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে তারা প্রশাসনের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানান, “একটি নির্দিষ্ট তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়েছে।” জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির (CWC) চেয়ারম্যান অসীম বোস নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তাধীন এবং এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
অভিভাবকদের ক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক এই ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তার (শিক্ষকের) আচরণ অসহ্য হয়ে উঠেছিল। অভিযুক্ত শিক্ষক আমাদের মেয়েদের ভয় দেখাতো, তাই শিশু কল্যাণ কমিটির কাছে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না আমাদের।”
এই ঘটনাটি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষকদের নৈতিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। ছাত্রীদের এত গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও, স্কুলের শিক্ষক বা পরিচালন কমিটি কেউই কেন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার এক স্কুলের ইংরেজি শিক্ষকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক ও পরে গ্রেফতার করে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।