“বদলে যাচ্ছে বাঙালির ব্যবসার ছবি, ‘ব্যবসায়ী বাঙালি ফাউন্ডেশন’-এর প্রথম বার্ষিক বিজ়নেস কনক্লেভ শহরে”

“বাঙালি নিতান্তই আড্ডাপ্রিয় জাতি, ব্যবসা বিমুখ”— এমন চিরাচরিত ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাঙালির ব্যবসায়িক উদ্যোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে চলেছে। একসময়ের অলস ভাতঘুম আর রক-পালিশ করা আড্ডাপ্রিয় জাতি হিসেবে পরিচিত বাঙালিরা এখন বড় থেকে ছোট, বিভিন্ন ব্যবসার অলিগলি ধরে মুনাফার সুলুকসন্ধানে ব্যস্ত। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটেই আগামী শুক্রবার (২৫শে জুলাই) শহরের এক হোটেলে আয়োজিত হতে চলেছে ‘ব্যবসায়ী বাঙালি ফাউন্ডেশন’-এর প্রথম বার্ষিক বিজ়নেস কনক্লেভ। এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে ১৫০-এর বেশি বাঙালি উদ্যোগপতি, ব্যবসায়ী এবং বিজনেস লিডার উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই বাঙালিকে ‘ব্যবসা বিমুখ’ জাতি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইতিহাসও খুব একটা উৎসাহব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরে না, যেখানে ব্যবসা বাণিজ্যের ঝুঁকি বহনের সহজাত প্রবণতার অভাব ছিল প্রকট। দিন গুজরানের জন্য কলম পেষা ১০টা-৫টা কেরানির চাকরি অথবা পৈতৃক সম্পত্তির দেখভালই যেন ছিল বাঙালির মোক্ষ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই ছবি নাটকীয়ভাবে পাল্টেছে। অসংখ্য বাঙালি এখন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন এবং সাফল্যের শিখরে আরোহণ করছেন।

এই ক্রমবর্ধমান সফল বাঙালি উদ্যোগপতিদের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জানুয়ারি ২০২৪-এ যাত্রা শুরু করে ‘ব্যবসায়ী বাঙালি ফাউন্ডেশন’। একটি চারা উদ্যোগ হিসেবে শুরু হয়ে এটি অল্প সময়ের মধ্যেই মহীরূহে পরিণত হয়েছে। শহর থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই সংগঠন আজ পৌঁছে গিয়েছে বিদেশের নানা প্রান্তে, এক গ্লোবাল বেঙ্গলি ডায়াস্পোরায় রূপান্তরিত হয়েছে। এটি মূলত প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়িক নেতৃত্বদের একটি অলাভজনক সংস্থা, যা বাঙালি সভ্যতা-সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আগামীকালের কনক্লেভটি উদ্বোধন করবেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সত্যম রায়চৌধুরী। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ‘উওম্যান এন্টারপ্রেনারশিপ সেল’-এর উদ্বোধনের পাশাপাশি একাধিক সমসাময়িক ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং অন্তর্দৃষ্টি ভাগ করে নেবেন।

অর্গানাইজিং কমিটির পক্ষ থেকে ‘ব্যবসায়ী বাঙালি ফাউন্ডেশন’-এর প্রিন্সিপাল ফাউন্ডার সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এই কনক্লেভ সম্পর্কে বলেছেন, “এই কনক্লেভ নিছকই কোনো অনুষ্ঠান নয়। বাঙালি যে ব্যবসা জগতে দৃষ্টান্তমূলক ছাপ ফেলা শুরু করে দিয়েছে, একে তারই সার্বিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা বলা যেতে পারে। এটি একটি সম্মিলিত ঘোষণা, যা নীরবে নয়, বরং সহযোগিতা, স্পষ্টবাদিতা এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের দামামা বাজায়।”

এই বিজ়নেস কনক্লেভ কেবল বাঙালি উদ্যোগপতিদের মিলনক্ষেত্রই নয়, এটি বাঙালির ব্যবসায়িক চেতনার পুনর্জাগরণের এক বলিষ্ঠ প্রমাণ। এটি প্রমাণ করে যে, বাঙালি এখন আর কেবলমাত্র কেরানির জাতি নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ব্যবসার জগতে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম।