“বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদার উপর হামলার অভিযোগ, কাঠগড়ায় তৃণমূল কাউন্সিলররা”

ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার এবং পাপিয়া ঘোষের বিরুদ্ধে লোক পাঠিয়ে মারধর করার অভিযোগ এনেছেন বিশ্বজিৎ। উল্লেখযোগ্যভাবে, অভিজিৎ সরকারের খুনের ঘটনায় সিবিআইয়ের দেওয়া চার্জশিটেও এই দুই তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম রয়েছে।
বিশ্বজিৎ সরকার দাবি করেছেন যে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়ির কাছেই তৃণমূল কাউন্সিলরদের তরফে লোক পাঠিয়ে তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার তরফে তাঁর বাড়ির সামনে গাছের ডালপালা কাটার জন্য কয়েকজন কর্মী পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় একটি গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এবং তাঁর গ্যারেজে থাকা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলেই উত্তেজনা ছড়ায়। বিশ্বজিতের অভিযোগ, যারা গাছ কাটছিল তারাই তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, স্বপন সমাদ্দার এবং পাপিয়া ঘোষই লোক পাঠিয়ে তাঁকে খুন করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, কর্পোরেশনের হয়ে গাছ কাটতে যাওয়া কর্মীরা বিশ্বজিৎ সরকারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের পাল্টা দাবি, গাছের একটি ডাল পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার কথা বলে বিশ্বজিৎ নিজেই বচসা শুরু করেন এবং তাঁদের উপর হামলা চালান। কর্মীদের অভিযোগ, বিশ্বজিৎ তাঁদেরকেও বেধড়ক মারধর করেছেন। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুই পক্ষ থেকে দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি এই হামলার তীব্র নিন্দা করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিশ্বজিৎ সরকারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ভোট পরবর্তী হিংসার রেশ যখন কাটতে শুরু করেছিল, তখন এই নতুন ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।