জলপাইগুড়ি হাসপাতালে ফের উত্তেজনা! ভুল ইঞ্জেকশনে রোগী মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে আত্মীয়-স্বজনরা

জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আবারও রোগীর মৃত্যু ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এবার পায়ে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া এক সাটারিং মিস্ত্রির ভুল ইঞ্জেকশনে মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে পরিবার। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আত্মীয়-স্বজনরা, এবং ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মৃত ব্যক্তির নাম নান্টু দে সরকার (৫৫), তিনি জলপাইগুড়ি শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় সাটারিং মিস্ত্রি ছিলেন। গতকাল রাতে পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় তাকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির কিছুক্ষণ পরই তাকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়, এবং এর পরপরই তার শরীর নিথর হয়ে পড়ে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, রোগীকে মেডিসিন ওয়ার্ডে না রেখে সরাসরি সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয়, যা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ভুল ইঞ্জেকশন প্রয়োগের কারণেই নান্টু দে সরকারের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রাত থেকেই হাসপাতালে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং আজও সকাল থেকে তা অব্যাহত রয়েছে। রোগীর আত্মীয়রা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাতের বেলা উত্তেজনা প্রশমিত হয়। রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে, মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তারা মৃতদেহের ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ঘটনার একটি পৃথক ও বিস্তারিত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনা আবারও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মান এবং রোগীর সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টই নান্টু দে সরকারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।