সোনার চেয়েও ভালো রিটার্ন, রেকর্ড গড়ে এবার রুপোর দাম বেড়ে গেলো অনেকটাই

আর্থিক অনিশ্চয়তা যখন বাড়ছে, তখন বিনিয়োগকারীদের পছন্দের ঠিকানা সোনা এবং রুপো। যদিও ঐতিহাসিকভাবে সোনাকেই প্রধান আশ্রয় হিসেবে গণ্য করা হয়, সাম্প্রতিককালে রুপো যেন তার ঔজ্জ্বল্যে সোনাকে টেক্কা দিচ্ছে। আকাশ ছুঁয়েছে রুপোর দাম, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সোনার তুলনায় বেশি মুনাফা দিয়েছে এই মূল্যবান ধাতু।

সর্বোচ্চ শিখরে রুপো, কাছাকাছি সোনা

মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ আজ ১ কেজি রুপোর দাম ১,১৬,৫৫১ টাকা স্পর্শ করেছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বাজারেও রুপোর দাম গত ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, সোনাও পিছিয়ে নেই; MCX-এ ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,০০,৫৫৫ টাকা, যা এর আগেকার সর্বোচ্চ স্তরের খুব কাছে।

কে এগিয়ে, সোনা নাকি রুপো?

ভারতীয় বাজারে উভয় ধাতু চমৎকার রিটার্ন দিলেও, শেষ হাসি হেসেছে রুপো। গত এক মাসে সোনা যেখানে ৩% লাভ দিয়েছে, সেখানে রুপোর মুনাফা ৯%। শুধু তাই নয়, গত এক বছরে রুপো বিনিয়োগকারীদের ৩৬% রিটার্ন দিয়েছে, যেখানে সোনার লাভ ছিল ৩২%। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টতই রুপোর শক্তিশালী উত্থানকে নির্দেশ করে।

কেন বাড়ছে রুপোর দাম?

বিশ্লেষকদের মতে, রুপোর দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো এর টেকনিক্যাল চার্টে শক্তিশালী অবস্থান। সোনার আকাশছোঁয়া দামের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন রুপোর দিকে ঝুঁকছেন, যা স্বাভাবিকভাবেই এর চাহিদা বৃদ্ধি করছে। এছাড়াও, এটি টানা চতুর্থ বছর যখন রুপোর শিল্প চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি।

চীনের ভূমিকা কি?

রুপোর দাম বৃদ্ধির পেছনে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চীন বর্তমানে অটোমোটিভ এবং ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রাংশের উৎপাদনে জোর দিয়েছে, আর এই শিল্পগুলিতে রুপোর ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে, টানা পাঁচ বছর ধরে রুপোর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকছে।

দীপাবলি পর্যন্ত কি এই ধারা অব্যাহত থাকবে?

বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রুপোর পাশাপাশি সোনার দামও আগামী দীপাবলি পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। বিশ্বব্যাপী আর্থিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম বাড়াতে সাহায্য করবে।

বিনিয়োগের পূর্বে সতর্কতা: এই নিবন্ধে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞানের জন্য। যেকোনো প্রকার বিনিয়োগের পূর্বে অবশ্যই আপনার আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।