ব্রহ্মপুত্রের উপরে চিনা বাঁধের কী প্রভাব পড়বে ভারত-বাংলাদেশে? এই প্রথম মুখ খুললো চিন

ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই চিন দাবি করেছে যে, এই প্রকল্পটির ফলে নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর উপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বেজিং-এর এই আশ্বাসে উভয় দেশের শঙ্কা কতটা দূর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণে চিন তিব্বতে এই বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্বিগুণ গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং অরুণাচল প্রদেশের কাছে নিয়িংচি শহরে ব্রহ্মপুত্রের নিম্ন অববাহিকায়, যা স্থানীয়ভাবে ইয়ারলুং জাংবো নামে পরিচিত, এই বাঁধের কাজ শুরুর ঘোষণা করেছেন। ভারত ও বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “প্রকল্পটি নিম্ন অঞ্চলগুলিতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।”
তবে চিনের এই আশ্বাসে ভারত সন্তুষ্ট নয়। কারণ, এই বাঁধের সম্ভাব্য পরিবেশগত এবং সামরিক প্রভাব নিয়ে ভারতের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু সম্প্রতি এই বাঁধটিকে একটি ‘জল বোমা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি সামরিক হুমকি ছাড়া অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বড় সমস্যা। তিনি আরও বলেন, যেহেতু চিন কোনো আন্তর্জাতিক জল চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী নয়, তাই তাদের বিশ্বাস করা যায় না।
জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও বন্যার আশঙ্কা
ভারত আশঙ্কা করছে যে, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে চিন জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জন করবে। এর বিশাল আকার এবং আয়তন বেজিংকে প্রচুর পরিমাণে জল ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ দেবে, যা ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে আকস্মিক বন্যার কারণ হতে পারে। এই বাঁধ থেকে বছরে ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ৩০ কোটিরও বেশি মানুষের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম। কিন্তু এর কৌশলগত গুরুত্ব এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে এটি ভারত ও বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত এখন চিনের এই প্রকল্পের উপর কড়া নজর রাখছে। একদিকে চিনের উন্নয়নের লক্ষ্য, অন্যদিকে নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর নিরাপত্তা ও পরিবেশগত উদ্বেগ – এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা আগামী দিনে একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।