‘ক্রমশ উষ্ণ’ হচ্ছে রাতের শহর, অপেক্ষা করছে ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎ! সতর্ক করলো বিশ্বব্যাঙ্ক

রাতের শহরে ক্রমশ বেড়ে চলা তাপমাত্রা এখন এক নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইট-কাঠ, কংক্রিটের অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে শহরের তাপমাত্রা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের তাপমাত্রার মধ্যে ফারাক তিন থেকে চার ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা ভারতের শহরাঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

‘Towards Resilient and Prosperous Cities in India’ শীর্ষক এই রিপোর্টে ভারতের ২৪টি শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, কংক্রিটের রাস্তা এবং অপরিকল্পিত পরিকাঠামোর কারণে শহরগুলো থেকে তাপ সম্পূর্ণভাবে নিঃসরণ হতে পারছে না। এর ফলে, শহরগুলো একটি ‘হিট আইল্যান্ড’-এর মতো আচরণ করছে, যেখানে দিনের বেলায় শোষিত তাপ রাতেও পরিবেশে থেকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরবর্তী দশকে আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

লখনৌ, চেন্নাই ও সুরাট: সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি

বিশ্বব্যাঙ্কের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লখনৌ, চেন্নাই, সুরাট, নয়াদিল্লি, ইন্দোর এবং তিরুবনন্তপুরমের মতো শহরগুলোতে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লখনৌতে রাতের তাপমাত্রা পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকার তুলনায় প্রায় ৫ ডিগ্রি বেশি থাকছে। একইভাবে, চেন্নাই ও সুরাটে এই ফারাক প্রায় ৩-৪ ডিগ্রি। এর ফলে, শহরবাসীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ভবিষ্যতের পূর্বাভাস: বন্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

রিপোর্টে আরও কিছু উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে, বছরে অন্তত ৬৫ দিন রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নিচে নামে না। কিন্তু ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬৫ দিনে। এর পাশাপাশি, এই হারে অপরিকল্পিত নগরায়ন চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরে শহরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা ৭৩-১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। দিল্লিতে বন্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা মোকাবিলায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে, যা ২০৭০ সালের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পুনে, মুম্বই, সুরাট, লখনৌ, বারাণসী, আমেদাবাদ, চেন্নাই, দিল্লি, কলকাতা ও ইন্দোরের মতো ১০টি বড় শহরে ‘হিট স্ট্রেস’ বাড়ছে। এর ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গরমের কারণে মৃত্যুর হারও বাড়ছে। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর গড়ে ১.৪ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় গরমের কারণে, যা ২০৫০ সাল নাগাদ ৩.২৮ লক্ষে পৌঁছতে পারে।

করণীয় কী?

বিশ্বব্যাঙ্ক ভারতকে এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতে, সময় মতো উপযুক্ত পদক্ষেপ এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। প্রতিটি বহুতলে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং বজ্র পদার্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মতো ছোট ছোট পদক্ষেপও এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে ভারতের শহরাঞ্চলের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে।