গোলাপী রঙের জিনিসের দাম কেন বেশি? ‘পিঙ্ক ট্যাক্স’ সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন

ফোন, ঘড়ি, জামাকাপড়, জুতো বা অন্য যেকোনো ফ্যাশন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দেখা যায় যে গোলাপী রঙের জিনিসগুলি অন্যান্য রঙের তুলনায় বেশি দামি হয়। এই বৈষম্যের কারণ হিসেবে একটি বিশেষ ধারণা উঠে এসেছে, যার নাম ‘পিঙ্ক ট্যাক্স’ বা ‘গোলাপী কর’। এটি কোনো সরকারি কর নয়, বরং একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঘটনা।

‘পিঙ্ক ট্যাক্স’ কী?
‘পিঙ্ক ট্যাক্স’ সেইসব পণ্য এবং পরিষেবাকে বোঝায়, যা মহিলাদের জন্য তৈরি করা হলেও পুরুষদের একই ধরনের পণ্যের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হয়। যেহেতু গোলাপী রঙকে সাধারণত মহিলাদের রঙ হিসেবে ধরা হয়, তাই গোলাপী প্যাকেজিং বা ডিজাইন করা পণ্যগুলোর দাম প্রায়শই বেশি থাকে।

এই প্রথাটি নিয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করছেন। তাদের মতে, এটি এক ধরনের মূল্য বৈষম্য এবং ন্যায্য কর প্রকল্পের আওতায় পড়া উচিত নয়। তারা মনে করেন, শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে তাদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করা কোম্পানিগুলোর ভুল।

ব্যয়বহুল হওয়ার কারণ কী?
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো পণ্য তৈরিতে যদি অতিরিক্ত খরচ হয়, তাহলে তার দাম বেশি হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মহিলাদের জন্য তৈরি পোশাক, জুতো বা প্রসাধনীর দাম প্রায়শই বেশি থাকে, যা শুধুমাত্র চাহিদার কারণে বা লিঙ্গ-ভিত্তিক বিপণনের (gender-based marketing) কারণে ঘটে।

উদাহরণস্বরূপ, গোলাপী রঙের প্যাকেজিং-এ তৈরি কোনো পণ্য একটি নিরপেক্ষ রঙের প্যাকেজিং-এর পণ্যের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে। একইভাবে, মেয়েদের জন্য ডিজাইন করা গোলাপী সাইকেল, হেলমেট বা খেলনা প্রায়শই একই রকম লাল বা নীল রঙের বাইক, স্কুটার বা হেলমেটের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়।

যদিও এই ‘পিঙ্ক ট্যাক্স’ কোনো সরকারি কর নয়, তবুও এটি সমাজে একটি বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে। এই ধরনের মূল্য বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে এবং এর অবসান ঘটাতে এখন অনেকেই সোচ্চার হচ্ছেন।