‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগে সন্তানসহ প্রেমিকা খুন, লিপস্টিক দিয়ে লেখা লোমহর্ষক বার্তা! তারপর?

সন্দেহের বিষ আর সম্পর্কের জটিলতা কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তারই এক হাড়হিম করা দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলায়। লিভ-ইন সঙ্গিনীর একাধিক পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার অভিযোগে ক্ষিপ্ত হয়ে এক যুবক তার প্রেমিকা এবং তার তিন বছরের খুদে সন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। আরও ভয়ংকর হলো, খুনের পর ঘাতক সারারাত মৃতদেহের পাশেই বসেছিল এবং দেওয়ালে লিপস্টিক দিয়ে হত্যাকাণ্ডের কারণ লিখে রেখেছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবতীর নাম রামসাখি কুশওয়া (৩৬)। তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ না হলেও, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর তিন বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি অনুজ বিশ্বকর্মা ওরফে ‘রাজা’র সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রামসাখি ও রাজার মধ্যে প্রায়শই বচসা হত। বিশেষত, রাজা রামসাখিকে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য জোরাজুরি করত এবং রামসাখির চরিত্র নিয়ে তার সন্দেহ ছিল, যা নিয়ে অশান্তি চরমে পৌঁছত।
শ্বাসরোধ করে খুন, পাশেই সারারাত যাপন:
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক তথ্য। গত মঙ্গলবার রাতে রাজা একে একে রামসাখি ও তার তিন বছরের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। নিথর দেহ দুটি একটি ঘরে রেখে, সেই ঘরেই সারারাত কাটায় সে। বুধবার ভোরবেলায় পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন তারা রাজাকে নিথর দেহ দুটির পাশেই বসে থাকতে দেখে।
লিপস্টিকের নৃশংস বার্তা:
এরপরই পুলিশের নজরে পড়ে, মৃতদেহের পাশের দেওয়ালে লিপস্টিক দিয়ে খুনের কারণ লিখে রেখেছে রাজা। দেওয়ালে লেখা ছিল, “আমিই খুন করেছি ওকে। আর মিথ্যে সহ্য করতে পারছিলাম না। ওর অন্য কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।” এই বার্তা ঘাতকের মানসিক অবস্থা এবং তার প্রতিশোধের তীব্রতাকেই তুলে ধরছে।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে খুনের ধরন আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে। ঘটনার খবর পেয়ে ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং ঘরটি পরীক্ষা করে দেওয়ালে লিপস্টিকের লেখার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক যুবক রাজাকে আটক করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর কেন সে পালিয়ে না গিয়ে মৃতদেহের পাশেই বসে ছিল, তা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করা হবে এবং সে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে। রাজার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত জারি রয়েছে।
কয়েক মাসের এক সম্পর্কের এমন ভয়াবহ পরিণতি গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া ফেলেছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সন্দেহের বশে এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ড সমাজের গভীর মনোবিকারকেই তুলে ধরেছে।