কসবা গণধর্ষণ! অভিযুক্তদের ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষা, ডিজিটাল প্রমাণ জোগাড়ে তোড়জোড় পুলিশের

দক্ষিণ কলকাতার কসবা সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে আইনের ছাত্রীকে গণধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে এবার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জোরালো ডিজিটাল প্রমাণ জোগাড় করতে পুলিশ আজ প্রেসিডেন্সি জেলে গিয়ে প্রাক্তন টিএমসিপি নেতা মনোজিৎ মিশ্র-সহ তিনজনের ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষা করবে। এই অত্যাধুনিক ফরেন্সিক পদ্ধতির মাধ্যমে মামলার তদন্ত আরও একধাপ এগোলো বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আজকেই মনোজিৎ মিশ্র ছাড়াও এই মামলার অপর দুই অভিযুক্ত – পড়ুয়া প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং জেব আহমেদের গেট প্যাটার্ন পরীক্ষা করা হবে। ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষা বলতে অভিযুক্তদের হাঁটাচলার ভঙ্গিমা বা বিশেষ প্যাটার্নকে রেকর্ড করা বোঝায়। এই রেকর্ডিং এরপর সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে, যা এই মামলায় ডিজিটাল এভিডেন্স হিসেবে আদালতে পেশ করা হবে। এটি অপরাধের সময় অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মনোজিতের বিরুদ্ধে পুরনো অভিযোগের পাহাড়:
আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলার মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র একজন ‘স্বভাবগত অপরাধী’। তার বিরুদ্ধে কলকাতার একাধিক থানায় শ্লীলতাহানি এবং নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই পূর্ব ইতিহাস মনোজিতের অপরাধ প্রবণতাকেই তুলে ধরছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, মনোজিতের ৪টি মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। এই ফোনগুলিতে পাওয়া তথ্য মামলার তদন্তে নতুন দিশা দেখাতে পারে এবং অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।
এই চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণকাণ্ডে ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রমাণ জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষার মতো আধুনিক ফরেন্সিক পদ্ধতির ব্যবহার প্রমাণ করছে যে, পুলিশ এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত প্রমাণ পেশ করতে বদ্ধপরিকর। কসবার এই ঘটনা শহরজুড়ে নারী সুরক্ষার প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।