রিলসের নেশা বাড়াতে নতুন সুবিধা, ইনস্টাগ্রামে এবার ‘অটো স্ক্রল!’ কীভাবে চালু করবেন দেখুন?

কাজের একঘেয়েমি কাটাতে বা অবসরে বিনোদন খুঁজতে ইনস্টাগ্রাম রিলস এখন অনেকেরই প্রধান আশ্রয়। কিন্তু প্রতিটি রিলস শেষ হওয়ার পর পরেরটিতে যাওয়ার জন্য ম্যানুয়ালি স্ক্রল করার যেটুকু বিরতি ছিল, এবার তাও দূর করতে চলেছে মেটা-মালিকানাধীন এই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। ইনস্টাগ্রাম আনছে নতুন ‘অটো স্ক্রল’ ফিচার, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক রিলস প্লে করতে থাকবে, ব্যবহারকারীর কোনো স্পর্শ ছাড়াই।
‘অটো স্ক্রল’ – কী এই নতুন সুবিধা?
নাম শুনেই স্পষ্ট, এই ফিচারটির মূল কাজ হলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিলস চালানো। একবার কোনো রিলস চালু করলে, পরবর্তী রিলসগুলো নিজে থেকেই স্ক্রল হয়ে চলতে থাকবে, ঠিক যেমন টেলিভিশন চ্যানেল বদলানো ছাড়াই অনুষ্ঠান চলতে থাকে। অর্থাৎ, আপনার আঙ্গুলের নড়াচড়ার প্রয়োজন ফুরলো। এই ফিচারটি ইতিমধ্যেই আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়ে গেছে, যা ডিজিটাল বিশ্বে একটি নতুন ট্রেন্ড সেট করতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য এটি কবে আসবে, তা এখনও জানা যায়নি, তবে আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই এই সুবিধাটিও তাদের কাছে পৌঁছাবে।
কীভাবে এই ফিচার চালু করবেন?
ইনস্টাগ্রামে ‘অটো স্ক্রল’ ফিচারটি চালু করা অত্যন্ত সহজ:
প্রথমে ইনস্টাগ্রাম অ্যাপে প্রবেশ করে একটি রিলস চালান।
রিলসের ডানদিকে নিচের কোণায় থাকা তিনটি ডট-এর উপর ক্লিক করুন।
সেখান থেকে ‘Auto Scroll’ অপশনটি নির্বাচন করুন।
ফিচারটি ‘On’ করলেই রিলস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করবে।
যদি ফিচারটি বন্ধ করতে চান, তবে একই প্রক্রিয়ায় গিয়ে ‘Auto Scroll’ অপশনটি ‘Off’ করে দিতে পারেন।
সুবিধা নাকি আসক্তির নতুন দিক?
ইনস্টাগ্রামের এই নতুন ফিচার নিঃসন্দেহে ব্যবহারকারীদের জন্য রিলস দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও নির্বিঘ্ন এবং মসৃণ করবে। এটি বিশেষ করে মাল্টিটাস্কারদের জন্য বা যারা বিরতিহীন বিনোদন পছন্দ করেন, তাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে এর অন্য একটি দিকও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ‘অটো প্লে’ বা ‘অটো স্ক্রল’ ফিচারগুলো ব্যবহারকারীদের স্ক্রিন টাইম এবং ডিজিটাল আসক্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যখন ম্যানুয়ালি স্ক্রল করার সামান্য বাধাও থাকছে না, তখন ঘন্টার পর ঘন্টা রিলসের জগতে হারিয়ে যাওয়া আরও সহজ হয়ে উঠবে।
এই ফিচার ইনস্টাগ্রামের ‘এঙ্গেজমেন্ট’ বাড়াতে সাহায্য করবে নিঃসন্দেহে, কিন্তু এর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবহারকারীরা কতটা সচেতনভাবে এই ফিচারটি ব্যবহার করেন এবং এটি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।