বিমান দুর্ঘটনায় উত্তাল বাংলাদেশ! লাশ গুম করার অভিযোগে ফুঁসছে জনতা, মুশকিলে ইউনূস সরকার

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে স্কুল ভবনের উপর যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় যেখানে মৃতের সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে, সেখানেই চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে, যা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি করেছে।
‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’: ছাত্র বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন
মঙ্গলবার দুর্ঘটনাস্থল, বিশেষত উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ চত্বর, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার শিকার, বিশেষ করে নিহত শিশুদের নাম-পরিচয় গোপন করার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনী মৃতদেহ গুম করে দেওয়ার মতোও মারাত্মক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। যদিও ইউনূস প্রশাসন মৃতের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আগুনে ঘি, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা:
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, স্কুল ভবনের উপর যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ জনই শিশু। এখনও বহু আহত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় মঙ্গলবারই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস। তবে, শোকের আবহেও মৃতের সংখ্যা ও পরিচয় নিয়ে অস্বচ্ছতা জনগণের ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিনা বিমান নিয়ে প্রশ্ন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ:
দুর্ঘটনাগ্রস্ত যুদ্ধ বিমানটি চিনের তৈরি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, কেন পুরনো বা ত্রুটিপূর্ণ বিমান চিনের কাছ থেকে কেনা হলো। এই বিষয়টি নিয়েও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে যে, বিক্ষোভ দমনের জন্য সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগ করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।
জনতার চাপে নতিস্বীকার? ইউনূস সরকারের প্রতিশ্রুতি:
ক্রমবর্ধমান ছাত্র বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে ইউনূস সরকার। মঙ্গলবার উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন ইউনূস প্রশাসনের শিক্ষা ও আইন উপদেষ্টারা। জানা গেছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের চাপে পড়ে সরকার নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আরও একটি কলেজ ক্যাম্পাস তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
এই দুর্ঘটনা কেবল একটি মর্মান্তিক ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার এক কঠিন পরীক্ষা। জনগণের চাপা ক্ষোভ এবং শিক্ষার্থীদের অনমনীয় প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা দ্রুত এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়।