ধেয়ে আসছে চিন-ভিয়েতনামের বিধ্বংসী ঝড় উইফা! ফুঁসছে বঙ্গোপসাগরও, কী হবে বাংলায়?

সকাল থেকে তীব্র রোদ থাকলেও, আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে নিম্নচাপ। আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে নিম্নচাপের কারণে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ, বুধবার রাত থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হবে। বর্তমানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চিন এবং ভিয়েতনামের বিধ্বংসী ঝড় ‘উইফার’ (WIPHA)-এর প্রভাবে আজ বুধবার উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার রাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।

ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
বৃহস্পতিবার: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতা সহ অন্যান্য জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক পশলা ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

শুক্রবার: পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি এবং বাঁকুড়ার মতো দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়াও, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সমুদ্র উত্তাল, মৎস্যজীবীদের নিষেধাজ্ঞা
নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর আগামী বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুলাই থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বৃষ্টি ও জলস্তর বৃদ্ধির কারণে নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

আজ কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৭০ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে থাকায় গরম এবং অস্বস্তি বজায় থাকবে।