উপ-রাষ্ট্রপতি শূন্য! ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফা, পরবর্তী কে? জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে তিন নাম

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ, উপ-রাষ্ট্রপতির আসন এখন শূন্য। জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফা, যা মাত্র ১২ দিন আগে ‘২০২৭-এর অগস্টেই অবসর নেব, ঈশ্বর না চাইলে তার আগে নয়’ – এই মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত, রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও তাঁর ইস্তফার কারণ হিসেবে ‘স্বাস্থ্যগত সমস্যা’ উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু দিল্লীর রাজনৈতিক করিডরে এই ব্যাখ্যা খুব একটা বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি। বরং, কে হবেন ধনখড়ের উত্তরসূরি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সংবিধান অনুযায়ী, উপ-রাষ্ট্রপতির নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, বিজেপি নেতৃত্ব এবং এনডিএ জোটের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গেছে। এই পদে যিনি বসবেন, তিনি শুধু রাজ্যসভার চেয়ারম্যানই হবেন না, বরং সরকারের কৌশলগত ভারসাম্য এবং রাজনৈতিক বার্তায় তাঁর ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জল্পনার কেন্দ্রে তিন প্রধান মুখ:
১. নীতীশ কুমার: ‘সম্মানজনক অবসর’ নাকি জাতীয় মঞ্চে প্রবেশ?
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নাম এই তালিকায় থাকাটা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। কিন্তু একাধিক মহলে গুঞ্জন চলছে যে, তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে জাতীয় স্তরের কোনো ভূমিকায় আসতে পারেন। এনডিএ শরিক উপেন্দ্র কুশওয়াহা এর আগে নীতীশকে অবসরের পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। চিরাগ পাসোয়ানের বিহার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে, ফলে নীতীশের জন্য উপ-রাষ্ট্রপতির পদ একটি ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ বা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত হতে পারে।
২. ভি কে সাক্সেনা (৬৭): বিতর্কিত থেকে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায়?
দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে গত তিন বছরে ভি কে সাক্সেনা একটি বিতর্কিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আম আদমি পার্টির অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ‘সংবিধানগত প্রশাসনিক বাধা’ হয়ে একাধিক নীতির রূপায়ণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন – বিশেষত দিল্লি জল বোর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, তাঁকে ‘বড় দায়িত্বে’ আনা হতে পারে। উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সেই ‘বড় দায়িত্ব’-এরই অংশ হতে পারে বলে এখন সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে। তার প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আনুগত্য তাকে এই পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।
৩. মনোজ সিনহা (৬৬): জম্মু-কাশ্মীরের সফল মেয়াদ শেষের পুরস্কার?
জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৬ই আগস্ট। সময়ের দিক থেকে তিনিই সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী বলে ধরা হচ্ছে। একদা রেল প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরপ্রদেশের প্রবীণ বিজেপি নেতা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে রয়েছেন। ৩৭০ ধারা রদের পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে সমর্থকেরা মনে করেন। যদিও মেয়াদ শেষের দিকে পাহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলায় পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনা তার ওপর কিছুটা দায় চাপিয়েছে। তবে, মোদি সরকারের ভরসার পাত্র হিসেবে তিনি পরিচিত।
নতুন অঙ্ক, নতুন ভারসাম্য:
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুধু একটি পদের জন্য লড়াই নয়, এটি মোদি সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের শেষার্ধে একটি কৌশলগত পদক্ষেপও বটে। এই পদে যিনি আসবেন, তিনি রাজ্যসভায় সরকারের নীতি প্রণয়নে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরের মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এছাড়াও, দলিত, ওবিসি বা কোনো আঞ্চলিক সমীকরণকে মাথায় রেখেও প্রার্থী বাছাই হতে পারে।
রাজনৈতিক মহল এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের ঘোষণা কখন হবে এবং বিজেপির ‘হাই-কমান্ড’ শেষ পর্যন্ত কোন চমকপ্রদ নাম নিয়ে আসে, সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। ধনখড়ের হঠাৎ প্রস্থানে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা পূরণে কে হবেন মোদি সরকারের ‘তুরুপের তাস’, তা জানতে আর বেশি দেরি নেই।