‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন দেব, জানালেন ‘আমি দায়িত্ব জানি!’

‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের অবস্থান অত্যন্ত জোরালোভাবে স্পষ্ট করলেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী)। বিতর্কের রণাঙ্গনে দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, তাঁর অগ্রাধিকার কথার লড়াই নয়, বরং বাস্তবে মানুষের জন্য কাজ করা। কোনো রাজনৈতিক চাপ বা বিরোধিতাকে তিনি পাত্তা দেবেন না, বরং আরও দৃঢ়চিত্তে ঘাটালবাসীর পাশে থাকবেন।

বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে দেব বলেন, “আমি তো ঘাটালের প্রথম সাংসদ নই। আমার আগেও অনেক গুণী ও অভিজ্ঞ নেতা এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুদাস গুপ্ত ছিলেন সাতবারের সাংসদ। যদি এই ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ এত সহজ হত, তবে তাঁদের আমলেই সেটা বাস্তবায়িত হয়ে যেত। আমি একা কিছু করতে পারি না, এটা একদিনে সম্ভবও নয়।” দেবের এই মন্তব্য তাঁর পূর্বসূরিদের প্রতি যেমন সম্মান দেখাচ্ছে, তেমনই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা এবং জটিলতার দিকেও ইঙ্গিত করছে।

‘আমি রাজনৈতিক নেতা হতে চাই না, আমি দায়বদ্ধ প্রতিনিধি’

দেবের কথায় বারবার উঠে আসে এক সাধারণ মানুষের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি – যেকোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের সুসমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক নেতা হতে চাই না। আমি নিজেকে একজন দায়বদ্ধ প্রতিনিধি মনে করি, যে নিজের কাজটা সততার সঙ্গে করে।” এই স্পষ্টীকরণ তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে জনসেবায় তাঁর অঙ্গীকারকে তুলে ধরছে।

ঘাটালের জলমগ্ন পরিস্থিতি, নদী বাঁধের সমস্যা এবং দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি যে বারবার লোকসভায় সরব হয়েছেন, এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও একাধিকবার আবেদন জানিয়েছেন, সেই পরিসংখ্যান ঘাটালবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।

সমালোচকদের প্রতি সরাসরি বার্তা: ‘কাদা ছোড়াছুড়ি করি না, কাজ করি’

যারা দেবের সমালোচনায় মুখর, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি ছুঁড়ে দিয়েছেন এক সোজাসাপটা বার্তা: “আমি জানি, যারা কাজ করে, তারাই সমালোচনার শিকার হয়। সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা অহেতুক কাদা ছোড়ে, তাদের সঙ্গে আমি পা মেলাতে চাই না। আমি কাদা ছোড়াছুড়ি করি না, আমি কাজ করি।” তাঁর এই উক্তি প্রমাণ করে, তিনি সস্তা রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে নারাজ।

দেবের আক্রমণাত্মক সুর আরও প্রকট হয় যখন তিনি বলেন, “আজ যারা চিৎকার করছেন, তারা নিজেরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন কী করেছেন তা ঘাটালের মানুষ জানেন। আমি শপথ নিয়েছিলাম, যতটা পারি মানুষের পাশে থাকব। তাই করে চলেছি। কেউ পাশে থাকুক বা না থাকুক, আমি আমার দায়িত্ব জানি এবং সেই মতোই কাজ করে যাব।”

সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলের ঊর্ধ্বে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার:

দেবের মতে, “আজ যারা ফেসবুকে বসে ট্রোল করছেন, সমালোচনা করছেন, তারা মাঠে নেমে মানুষের কষ্ট জানেন না। আমি তাঁদের বলব, রাজনীতি করতে হলে আগে মানুষের পাশে দাঁড়ান। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে কথা বলে কিছু হয় না।” তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজনীতি তাঁর কাছে কেরিয়ার নয়, বরং মানুষের সেবা করার এক মাধ্যম।

শেষে এক আবেগঘন বার্তায় দেব বলেন, “ঘাটাল আমার প্রাণ। এখানে আমি জন্মাইনি, কিন্তু এখানকার মানুষ আমাকে যেভাবে আপন করেছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আমি জানি, যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা জানেন আমি কী করি। তাঁরা জানেন বলেই আমি আছি। আর তাঁদের বিশ্বাসকেই আমি সম্মান করতে চাই কাজের মাধ্যমে।”

দেবের এই আত্মবিশ্বাসী এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার মাঝেই নিজের কর্মনিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেব প্রমাণ করলেন, তিনি কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি নয়, বরং উন্নয়নের রাজনীতিতেই বিশ্বাসী।