২১ শের বাসে টাকা বিলির অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে, অভিযোগ বিরোধীদের

তৃণমূল কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ শেষ হওয়ার পর বাসে ফেরার সময় কর্মীদের মধ্যে টাকা বিলির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়। অভিযোগ উঠেছে, দত্তপুকুরের কাশেমপুর অঞ্চলের এক তৃণমূল নেতা এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি—যার পরিচয় দেওয়া হয়েছে কাশেমপুর তৃণমূল সভাপতি অমল কুমার বিষ্ণু হিসেবে—বাসে বসে একে একে কর্মীদের হাতে ১০০ ও ২০০ টাকার নোট তুলে দিচ্ছেন। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের অভিযোগ তোলে।

বিজেপি ও সিপিএমের তোপ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্ব। বিজেপির আমডাঙা মণ্ডল সভাপতি সমরজিৎ ঘোষ বলেন, ‘‘তৃণমূল এখন কর্মীদের টাকা দিয়ে শহিদ দিবসে নিয়ে যাচ্ছে। যারা না গেলে কাজ চলে যাওয়ার ভয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা জনতার সমর্থন নয়, ভয় আর টাকার প্রভাব।’’

সিপিএম নেতা হাবিব আলির কথায়, ‘‘শুধু টাকা নয়, আরও নানা লোভ দেখিয়ে মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা শাসকদলের স্বাভাবিক চরিত্র।’’

তৃণমূলের পাল্টা দাবি

তবে পুরো ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা অমল কুমার বিষ্ণু। তাঁর সাফ কথা, ‘‘এই ভিডিও আমাদের এলাকার নয়। বিরোধীরা তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ভুয়ো ভিডিও ছড়াচ্ছে। আমাদের কর্মীদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না। আমরা মানুষের উপর বিশ্বাস করি, টাকায় নয়।’’

তবে এই ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যেই চাপের মুখে তৃণমূলের নিচুতলার নেতৃত্ব। যদিও ‘এই সময়’ ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি, তবুও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও নিয়ে আলোড়ন শুরু হয়েছে।

রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্ন

ঘটনার গুরুত্ব এই কারণে আরও বেড়েছে যে, ২১ জুলাইয়ের মতো একটি প্রতীকী কর্মসূচির পর যদি কর্মীদের মধ্যে আর্থিক বিনিময়ের ছবি সত্যি হয়, তাহলে রাজনৈতিক সভাগুলোর উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিরোধীদের হাত শক্ত করতে পারে।

শেষ কথা: ভিডিও সত্য না ভুয়ো, সেটা সময় বলবে। তবে ঘটনাটি নিয়ে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। প্রশাসন বা তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও নিরপেক্ষ তদন্ত বা অবস্থান স্পষ্ট হলে তবেই সত্যতা বোঝা যাবে। ততদিন পর্যন্ত এই ভিডিও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকছেই।