OMG! মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নিতে ১০ বছর পর খুন, জেনেনিন পুরো ঘটনা

মায়ের প্রকাশ্য অপমান ও মারধরের প্রতিশোধ নিতে এক দশক ধরে অপেক্ষায় থাকা এক যুবক শেষ পর্যন্ত ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুন করেছেন। গত ২২ মে ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌর কল্যাণপুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সোমবার (২০ জুলাই) উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনোজ কুমার (৩২) নামের ওই ব্যক্তিকে কল্যাণপুরের মানমিত ডেইরির কাছের এক এলাকায় লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত অনুপ ওরফে সোনু কাশ্যপ (২১), যিনি পেশায় একজন ডেলিভারি বয়। মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নিতে গত দশ বছর ধরে তিনি ক্ষোভের আগুনে পুড়ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে মনোজ কুমারকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোনু ছাড়াও সানি কাশ্যপ (২০), সালমান (৩০), রঞ্জিত কুমার (২১) ও রহমত আলী (২৫) নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে সোনু কাশ্যপের বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। সেই সময় মনোজ কুমার প্রকাশ্যে সোনুর মাকে চড় মেরেছিলেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছিলেন। এই ঘটনার পর সোনুর মা স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন এবং মৃগী রোগে আক্রান্ত হন। মায়ের এই ভয়াবহ অপমান কিশোর সোনু কোনোদিন ভুলতে পারেননি।
সম্প্রতি মুনশিপুলিয়া ক্রসিং এলাকায় সোনু, মনোজকে নারিকেলের পানি বিক্রি করতে দেখেন। প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে সোনু তার বন্ধুদের কাছে মায়ের অপমানের কথা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “মনোজ আমার মাকে মেরেছিল। আমি তাকে মেরে ফেলতে চাই।”
পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সোনু জানিয়েছেন, গত ২২ মে মনোজের কাজ শেষে ফেরার পথে বন্ধুদের নিয়ে তিনি ওত পেতে ছিলেন। সোনুই প্রথমে লোহার রড দিয়ে মনোজকে আঘাত করেন। এরপর বাকিরা মনোজকে বেধড়ক মারধর করেন। মারের চোটে মনোজ এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মনোজ মারা গেছেন ভেবে বন্ধুদেরসহ সোনু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনার সময় রহমত ও সচীন নামে সোনুর আরও দুই সহযোগী উপস্থিত ছিলেন, যারা পরে পালিয়ে যান।
লক্ষ্ণৌর পূর্ব বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শশাঙ্ক সিং জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার (২০ জুলাই) ইন্দিরানগর থানা পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
প্রায় দুই মাস পর পুলিশ একটি বিশেষ সূত্র ধরে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে। রহস্যের কিনারা ছিল একটি কমলা রঙের টি-শার্ট। ওই টি-শার্টে কার্টুন চরিত্র সিম্পসনের ছবি এবং মাথার অংশে কাটা দাগ ছিল। এই একই টি-শার্ট পরিহিত যুবককে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। পরে পুলিশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারীদের একটি বিশেষ দল একটি তরুণের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সেই একই টি-শার্ট দেখতে পায়।
ওই সূত্র ধরে লক্ষ্ণৌ পুলিশ দল ওই তরুণের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ডেলিভারি বয়ের ছদ্মবেশে পুলিশ ওই তরুণের বাড়িতে পৌঁছে তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সোনু মনোজকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এভাবেই বেরিয়ে আসে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মর্মান্তিক সত্য।