‘অপমানিত-ব্যথিত’ হয়েই কী ধনখড়ের ইস্তফা? আড়ালে মোদীকে বিঁধল কংগ্রেস! তোলপাড় রাজনীতি

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে যখন জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড়, তখন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক বিস্ফোরক দাবি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে এক এক্সবার্তায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অপমানিত ও ব্যথিত হয়েই কি ধনখড় এই বেনজির পদক্ষেপ করেছেন! রমেশের অভিযোগ, সোমবার উপরাষ্ট্রপতির ডাকা এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিতিই এই পদত্যাগের নেপথ্যে মূল কারণ।
জয়রাম রমেশ তাঁর দীর্ঘ এক্সবার্তায় গতকালের (সোমবার) ঘটনাক্রম তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার সময় রাজ্যসভায় বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির (বিএসি) একটি বৈঠকে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় পৌরোহিত্য করেন। সেই বৈঠকে রাজ্যসভার নেতা জেপি নাড্ডা ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুসহ প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার পর কমিটি ফের বিকেল সাড়ে ৪টের সময় মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
দ্বিতীয় বৈঠকে নাড্ডা-রিজিজুর অনুপস্থিতি:
রমেশের দাবি, বিকেল সাড়ে ৪টের সময় বিএসি যখন ফের মিলিত হয়, তখন প্রথা অনুযায়ী রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে জগদীপ ধনখড়ই পৌরোহিত্য করছিলেন। তিনি জেপি নাড্ডা ও কিরেন রিজিজুর জন্য অপেক্ষা করলেও তাঁরা আসেননি। রমেশের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী তাঁদের না আসতে পারার কথা ব্যক্তিগতভাবে ধনখড়কে জানাননি। সরকারের তরফের দুজন পদস্থ মন্ত্রী তাঁর ডাকা বৈঠকে আসবেন না, তা তাঁকে জানানো হয়নি।
জয়রাম রমেশের সন্দেহ, এ কারণেই উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় অপমানিত বোধ করেন। এরপরই আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় তিনি ফের একটি বৈঠক ডেকেছিলেন বলে রমেশ জানিয়েছেন। রমেশের দাবি, গতকাল দুপুর ১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে নিশ্চয়ই বিরাট কিছু ঘটে গিয়েছিল। নাড্ডা ও রিজিজুর মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের ইচ্ছাকৃত গরহাজিরার দায় প্রধানমন্ত্রীর উপর বর্তায়। কারণ, প্রথম বৈঠকে তাঁরা হাজির থাকলেও দ্বিতীয় বৈঠকে কেন অনুপস্থিত থাকলেন এবং তাও উপরাষ্ট্রপতির মতো ব্যক্তিকে আগাম কারণ না জানিয়ে?
‘গণতন্ত্রে নজিরবিহীন ঘটনা’:
রমেশ বলেছেন, যা ঘটে গিয়েছে, তা সত্যিই ভারতের ইতিহাসে বেনজির ঘটনা। ইস্তফা দেওয়ার জন্য ধনখড় স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়েছেন, ফলে তাঁর কথারই মান্যতা দেওয়া উচিত। কিন্তু রমেশ এও বলেছেন, তাঁর পদত্যাগের আড়ালে যে গভীর কোনও কারণ রয়েছে, তা অস্বীকার করা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নাম না করে জয়রাম রমেশ প্রচ্ছন্নভাবে তাঁকেই নিশানায় বিঁধেছেন। তিনি লিখেছেন, ২০১৪ পরবর্তী ভারতে ধনখড় ভয়ভীতিহীনভাবে কৃষকদের উন্নয়নের কথা জোর গলায় বলে গিয়েছেন, জনতার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং জোরাল ভাষায় বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি ‘চলতি জি-টু জমানা’ (মোদী ও অমিত শাহের শাসনকালকে ইঙ্গিত করে) বিরুদ্ধে বিরোধীদের জায়গা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও রমেশের দাবি।
জয়রাম রমেশের এই এক্সবার্তা জগদীপ ধনখড়ের পদত্যাগের রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দিকে সন্দেহের তীর ছুঁড়ে দিয়েছে।