‘বিনা চিকিৎসায় মারা গেল আমার ছেলে!’ মায়ের কান্নায় ভারি হাবরা হাসপাতাল চত্বর

হাসপাতালের মেঝেতে আছড়ে পড়ছে এক মায়ের বুকফাটা কান্না। তার চোখের সামনেই নিভে গেল ১৪ বছরের তরতাজা ছেলের প্রাণ! মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জ্বর নিয়ে ভর্তি হওয়া কিশোরের মৃত্যুর পর হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অমানবিকতা ও বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলছেন মা।

ঘটনাটি ঘটে হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গোবরডাঙ্গা থানার শানপুকুর প্রতাপনগর এলাকার জানাফুল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র গোপাল কুণ্ডুর গত দু’দিন ধরে জ্বর ছিল। গতকাল রাতে হঠাৎ বুকে ব্যথার কথা বলতেই পরিবারের সদস্যরা রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ তাকে হাবরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ডাক্তার কিশোরকে ভর্তি করে নেন।

কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেও গোপাল বুকে ব্যথায় ছটফট করছিল। মা নুপুর কুণ্ডু বারবার ডাক্তার ও নার্সকে ডাকছিলেন, আকুতি জানাচ্ছিলেন ছেলেকে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য। কিন্তু অভিযোগ, তাতে কোনও সাড়া মেলেনি। নুপুর দেবীর দাবি, তার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও, ছেলে মারা যাওয়ার মাত্র ৫ মিনিট আগে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নুপুর কুণ্ডু বলেন, “আমার ছেলে বিনা চিকিৎসায় মারা গেল।” ছেলেকে হারিয়ে হাবরা হাসপাতাল চত্বরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল অসহায় এই মাকে।

যদিও এই ঘটনা নিয়ে হাবরা হাসপাতালের সুপার বিবেকানন্দ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ছেলেটির চিকিৎসা চলছিল এবং ডেঙ্গু টেস্ট করা হয়েছিল, কিন্তু ডেঙ্গু ধরা পড়েনি। তাঁর মতে, কোনো ইনফেকশন থেকে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

তবে প্রশ্ন উঠছে, সামান্য জ্বর ও বুকে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের এক তরতাজা কিশোরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় কে নেবে? হাসপাতালের উদাসীনতা কি এই মৃত্যুর কারণ? গোটা ঘটনায় হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে গভীর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।