সাদা কাগজে সই করানো হয়? ধনখড়ের ইস্তফার আগে রাজনাথের ঘরে মিটিংয়ে ‘রহস্য’-র দানা

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফা সোমবার সন্ধ্যায় দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ দেখিয়ে তাঁর পদত্যাগ বিরোধী দলগুলোকেও হতবাক করে দিয়েছে। সত্যিই কি এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল স্বাস্থ্যগত কারণ, নাকি এর গভীরে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। তাঁর ইস্তফার সময় এবং পারিপার্শ্বিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরেও নানা প্রশ্ন উঠছে।
ইস্তফার সময় নিয়ে ধোঁয়াশা
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের বক্তব্য এই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। জয়রাম রমেশ জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭:৩০টায় তিনি জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সে সময় ধনখড় তার পরিবারের সঙ্গে ছিলেন এবং জানান যে মঙ্গলবার কথা বলবেন। এর আগে বিকেল ৫টা নাগাদ জয়রাম রমেশ, প্রমোদ তিওয়ারি এবং অখিলেশ প্রসাদ সিং ধনখড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সে সময় সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয়েছিল জয়রাম রমেশের। এমনকি বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।
কংগ্রেস সাংসদ অখিলেশ প্রসাদ সিং-ও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সবার শেষে সংসদ ভবন থেকে জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়েছিলেন। তার মতে, ধনখড়ের স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং ইস্তফা দেওয়ার কোনো ইঙ্গিতও তিনি দেননি। বরং, তিনি কোনো একটি সমিতিতে যোগদানের কথা জানিয়েছিলেন, যদিও তা খোলসা করে কিছু বলেননি।
রাজনাথ সিংয়ের দফতরে নাটকীয়তা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া নানাপ্রকার গতিবিধি এই ধোঁয়াশার আরও জন্ম দিয়েছে। সূত্রের খবর, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি সাংসদ বলেছেন, ‘সাদা কাগজে সই করানো হয়েছিল।’ যদিও তিনি এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। সোমবার সন্ধ্যায় দফায় দফায় রাজনাথ সিংয়ের কার্যালয়ে বৈঠক হয়। তাকে সেখানে ঢুকতে এবং সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে যেতেও দেখা যায়। সেখানেই কি তবে কাউকে সাদা কাগজে সই করানো হয়েছিল? এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। তবে, ওই বৈঠকে ধনখড় উপস্থিত ছিলেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, ইস্তফা ঘোষণার আগে তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ মিনিট বৈঠক করেছিলেন।
ঘটনাপ্রবাহের ক্রমিক তালিকা:
দুপুর ২:০০: লোকসভায় প্রায় ১০০ জন বিরোধী সাংসদ বিচারপতি ভার্মার ইমপিচমেন্টের জন্য স্বাক্ষর করেন। এরপরই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান পদে থাকা জগদীপ ধনখড়ও বিচারপতি ভার্মার ইমপিচমেন্ট নিয়ে বিরোধীদের নোটিশ গ্রহণ করে নেন।
বিকেল ৪:০৭: ইমপিচমেন্ট নোটিশে বিরোধী দলের ৬৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে তা নিশ্চিত করেন জগদীপ ধনখড়। বিচারপতির ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে সকলকে অবগতও করেন।
সন্ধ্যা ৫:০০-৬:০০: বিরোধী দলের সাংসদদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সন্ধ্যা ৭:৫০: জগদীপ ধনখড় ইস্তফা দেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে সেটাই যে তাঁর অন্তিম বক্তব্য ছিল, তা বিন্দুমাত্রও আভাস পেতে দেননি কাউকে। একইসঙ্গে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে, এমন ইঙ্গিতও সোমবার রাজ্যসভার অধিবেশন চলাকালীন কাউকে জানাননি এবং বুঝতেও দেননি জগদীপ ধনখড়।
বড় রাজনৈতিক বদলের ইঙ্গিত?
বাইরে থেকে সামান্য মনে হলেও, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় রাজনৈতিক ঝড় উঠতে পারে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছেন। জগদীপ ধনখড়ের আকস্মিক ইস্তফা কি সত্যিই কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়েই এখন চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।