২০২৬-এর আগে ‘ধর্মীয় তাস’, দিঘার জগন্নাথ ধামের পর এবার ‘দুর্গা অঙ্গন’ – মমতার নতুন চাল?

বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হলো ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ঘিরে। দিঘায় পুরীর আদলে জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের পর এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন রাজ্যে একটি বড় ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরির কথা। ধর্মতলার ২১শে জুলাইয়ের শহীদ স্মরণ সভার মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করে তৃণমূল সুপ্রিমো কার্যত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নতুন কৌশল অবলম্বন করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
‘জয় শ্রী রাম’ থেকে ‘জয় মা দুর্গা’: মমতার কটাক্ষ ও পাল্টা চাল
এদিন ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করেন। সাম্প্রতিক দুর্গাপুরের সভায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘জয় শ্রী রামের’ পরিবর্তে ‘জয় মা দুর্গা’ বলতে শোনা গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ মা কালী, মা দুর্গার নাম মনে পড়েছে! নির্বাচন এসেছে বলে! বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। মাঝে মাঝেই বলা হয় বাংলায় নাকি সরস্বতী পুজো করতে দেওয়া হয় না। দুর্গা পুজো, কালীপুজো করতে দেওয়া হয় না।” এরপর বিজেপি শাসিত অসমে একটি কালী মন্দির ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “এখানে কোনো মন্দির ভাঙলে হইচই করত। অথচ বিজেপি শাসিত রাজ্য অসমে একটি কালী মন্দির ভাঙা হয়েছে। এখন তার কথা তো কেউ বলছেন না।”
এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, “জগন্নাথ ধামের মতো একটি দুর্গা অঙ্গন আমি তৈরি করব।” শুধু মমতা নন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রধানমন্ত্রীর ‘মা দুর্গা’ স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ করেন। অভিষেকের বক্তব্যের পরই মমতা এই নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দিঘার জগন্নাথ মন্দির এবং বিতর্কের রেশ:
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের প্রতিশ্রুতি মেনে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্কও দানা বাঁধে। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ‘জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দযোগে’ আপত্তি তুলেছিল এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছিলেন, “সরকারি অর্থ খরচ করে মন্দির করা যায় না।”
এই প্রেক্ষাপটে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরির ঘোষণা বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন বাঙালির ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানানোর চেষ্টা করছেন, তেমনই অন্যদিকে বিজেপির ‘রাম রাজনীতি’র মোকাবিলায় ‘মা দুর্গা’কে কেন্দ্র করে এক নতুন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এই ঘোষণা যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য।