একুশে জুলাইয়ে মমতার ‘দিল্লি চলো’ ডাক, বিজেপিকে নিশানা করে যা যা বললেন?

শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে আজ ফের দিল্লিমুখী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Shahid Diwas)। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তিনি বাংলা ও বাঙালিয়ানা রক্ষার ডাক দেন। সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বললেন, “বাংলায় উন্নয়ন হচ্ছে বলেই ভয় পাচ্ছে বিজেপি। তাই বঞ্চনার রাজনীতি করছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষকেই এখন টার্গেট করা হচ্ছে।”

বাংলা ভাষার ওপর ‘সন্ত্রাস’ ও দিল্লির লড়াই:

ধর্মতলার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলা ভাষার উপরে সন্ত্রাস চলছে। বাংলা স্বাধীনতার জন্য লড়েছে, নবজাগরণ হয়েছে এখান থেকেই। বাংলা ভাষায় কথা বললেই যদি কাউকে গ্রেফতার করা হয়, তা হলে এবার লড়াই হবে দিল্লিতে। আমি কিন্তু ছাড়ার লোক নই। মনে আছে তো, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কথা?”

বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “বাংলা রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, নজরুলের জন্মভূমি। এখান থেকেই লেখা হয়েছে জাতীয় সঙ্গীত। অথচ আজ বলা হচ্ছে বাংলা ভাষায় কথা বলা যাবে না! বাংলার সংস্কৃতির উপর এভাবে আঘাত করা হচ্ছে কেন?”

খাদ্যাভ্যাস ও রোহিঙ্গাদের অভিযোগ:

মুখ্যমন্ত্রী খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপির দিকে আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, “কে মাছ খাবে, কে মাংস খাবে, কে ডিম খাবে— সব কিছুই ওরা ঠিক করে দিতে চায়। এটা কি গণতন্ত্র?” পাশাপাশি, রাজ্যে ১৭ লক্ষ রোহিঙ্গা থাকার দাবি নিয়ে তিনি তীব্র কটাক্ষ করেন। প্রশ্ন তোলেন, “বাংলায় এত রোহিঙ্গা এল কোথা থেকে? এই মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।”

২০২৬ নয়, এবার লক্ষ্য দিল্লি:

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২১শে জুলাইয়ের এই মঞ্চকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের সূচনা হিসেবেই ব্যবহার করেছেন। নেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলার স্বাভিমান নিয়ে কোনও আপস নয়। এবার এই লড়াই রাজধানীর দোরগোড়ায় পৌঁছবে। মমতার এই দিল্লি-কেন্দ্রিক বার্তা আগামী দিনে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।