“ওটা সভা নয়, পাগলু ডান্স”-শুভেন্দুর নিশানায় TMC-র শহিদ দিবস, জেনেনিন কী বললেন?

আজ, সোমবার ২১ জুলাই, তৃণমূল কংগ্রেস যখন কলকাতায় তাদের মেগা শহিদ দিবস পালন করছে, ঠিক তখনই এর পাল্টা হিসেবে শিলিগুড়িতে ‘উত্তরকন্যা অভিযান’-এর ডাক দিয়েছে বিজেপি যুব মোর্চা। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সকালে উত্তরবঙ্গ রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “ওটা সভা নয়, ওখানে পাগলু ডান্স হবে।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “নাচতে নাচতে আসছে দেখছেন না। জলঙ্গি থেকে বাসের ভেতরে নাচতে নাচতে আসছে বাজনা বাজিয়ে। পুরুলিয়া থেকে জোর করে যাদের আনা হয়েছে তারা ইতিমধ্যেই পালিয়েছেন।”
‘পাগলু ডান্স’ বিতর্কের উৎস: ভাইরাল ভিডিও
শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘পাগলু ডান্স’ কটাক্ষের সূত্রপাত হয়েছে রবিবার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও থেকে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে ধর্মতলার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে জলঙ্গি দক্ষিণ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূল যুব সভাপতি মোশারফ হোসেন ওরফে লিলুয়া। ভিডিওতে হিন্দি গানের তালে নাচতে নাচতে, উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তে দেখা যায় কর্মীদের। কেউ কেউ আবার উচ্ছ্বাসের আতিশয্যে নিজেদের জামাও খুলে ফেলেছেন। যদিও ‘বাংলা ডট আজতক ডট ইন’ এই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি, তবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টিকেই তাঁর কটাক্ষের মূল হাতিয়ার করেছেন। প্রতি বছরই তৃণমূল কংগ্রেস শহিদদের স্মরণে এই দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালন করে।
শিলিগুড়িতেও সাজো সাজো রব: উত্তরকন্যা অভিযানের প্রস্তুতি
ধর্মতলার পাশাপাশি আজ সেজে উঠেছে শিলিগুড়িও। উত্তরকন্যা অভিযানের জন্য বিজেপির সভা উত্তরকন্যা ভবনের কাছে অনুষ্ঠিত হবে। উত্তরকন্যাকে পাশে রেখে যখন র্যালি এগোবে, তখন উত্তরকন্যা ভবনের নিরাপত্তায় পুলিশ বিশেষ বন্দোবস্ত করবে। পাশাপাশি র্যালির যাত্রাপথ এবং সভামঞ্চ মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূলের শহিদ দিবসের দিনেই বিজেপির এই পাল্টা কর্মসূচি রাজ্যের রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর আরও বৃদ্ধি করবে। শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘পাগলু ডান্স’ মন্তব্য তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেললেও, বিজেপির এই অভিযান কতটুকু সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।