বীরভূমে ফের খুন তৃণমূল নেতা, বোমা হামলায় মৃত্যু হলো পঞ্চায়েত সমিতি সদস্যের স্বামীর

ফের বোমাবাজির ঘটনায় উত্তপ্ত বীরভূমের মাটি। শনিবার রাতে মল্লারপুর থানার অন্তর্গত বড়তুড়িগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বিশিয়া গ্রামে বোমা হামলায় নিহত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের এক স্থানীয় নেতা বাইতুল্লা শেখ। এই ঘটনায় বাইতুল্লার দুই সঙ্গীও গুরুতর আহত হয়ে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় আটটা নাগাদ গ্রামের মোড়ের কাছে চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বাইতুল্লা শেখ এবং তাঁর দুই সঙ্গী রাজিব শেখ ও সাজউদ্দিন শেখ। ঠিক সেই সময় পুকুরপাড়ের অন্ধকার থেকে কয়েকজন দুষ্কৃতী পরপর তিনটি বোমা ছোড়ে। বাইতুল্লা শেখই ছিল দুষ্কৃতীদের মূল নিশানা। বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা বাইতুল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দুই আহত রাজিব শেখ ও সাজউদ্দিন শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: তৃণমূল বনাম বিজেপি
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বীরভূমের রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরাই বাইতুল্লা শেখকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে।
যদিও এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল। তাঁর দাবি, “ওই গ্রামে বিজেপির কোনও সংগঠনই নেই। ওটা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রাম। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।” বিজেপির এই অভিযোগ তৃণমূলের অন্দরের বিভেদকে সামনে আনছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
পুলিশি তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি
ঘটনার পরই বিশিয়া গ্রামে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি এবং চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীরা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত বাইতুল্লা শেখ ময়ুরেশ্বর-১ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ শাকিলা বিবির স্বামী হওয়ায় ঘটনার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, অনুব্রত মণ্ডলের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত বীরভূমে এর আগেও একাধিকবার রাজনৈতিক হিংসা ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের এই ঘটনা আবারও জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুললো। বিশিয়া গ্রামে এখন আতঙ্কের বাতাবরণ। স্থানীয়রা উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। প্রশাসনের তরফে কড়া পুলিশি নজরদারি জারি রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।