“মোদী জি, ৫টি বিমানের সত্যতা কী?”-ট্রাম্পের দাবি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে প্রশ্ন রাহুল গান্ধীর

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অধীনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এরপর ১০ মে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়। এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্পের একটি মন্তব্য এবং তার প্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধীর প্রশ্নবাণে উত্তাল ভারতের রাজনৈতিক মহল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও বহুবার দাবি করেছেন যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আমেরিকার কারণেই সম্ভব হয়েছিল। এবার শুক্রবার তিনি আরও এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, এই যুদ্ধের সময় মোট পাঁচটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল। তবে, ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানাননি যে, কোন দেশের বিমানগুলি ভূপাতিত হয়েছিল। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানও একাধিকবার দাবি করেছে যে তারা এই যুদ্ধের সময় ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছিল, যা ভারত বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
রাহুল গান্ধীর প্রশ্নবাণ প্রধানমন্ত্রীকে
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর কংগ্রেস সাংসদ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ রাহুল লিখেছেন, “মোদী জি, ৫টি বিমানের সত্যতা কী? দেশের জানার অধিকার আছে।” এই প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে ঘটনার প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ: ‘দেশদ্রোহী মানসিকতা’
রাহুল গান্ধীর এই প্রশ্নের পর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আইটি সেলের জাতীয় আহ্বায়ক অমিত মালব্য তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের সমালোচনা করে মালব্য এক্স-এ পোস্ট করেছেন, “রাহুল গান্ধীর মানসিকতা বিশ্বাসঘাতকের মতো। ট্রাম্প তার বিবৃতিতে ভারতের নাম নেননি এবং বলেননি যে ওই পাঁচটি বিমান ভারতের। তাহলে কংগ্রেসের যুবরাজ কেন সেগুলোকে ভারতের বলে মেনে নিলেন? কেন তিনি সেগুলোকে পাকিস্তানের বলে মেনে নিলেন না? তার কি নিজের দেশের চেয়ে পাকিস্তানের প্রতি বেশি সহানুভূতি আছে?”
মালব্য আরও বলেন, “সত্য হলো পাকিস্তান এখনও অপারেশন সিঁদুরের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। কিন্তু রাহুল গান্ধী যন্ত্রণায় কাতর। যখনই দেশের সেনাবাহিনী শত্রুকে শিক্ষা দেয়, তখনই কংগ্রেস বিরক্ত হয়। ভারতবিরোধী মনোভাব এখন আর কংগ্রেসের অভ্যাস নয়, এটি তাদের পরিচয় হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধী জানানো উচিত – তিনি কি ভারতীয় না পাকিস্তানি মুখপাত্র?”
এই ঘটনার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। দেশজুড়ে এই বিষয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং জনগণের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন এবং বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রকৃত সত্য কবে সামনে আসে, তার দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ।