মমতা ব্যানার্জির ছবি দিয়ে হোর্ডিং খোলায় অভিযুক্ত RPF, খড়্গপুরে বাধলো তুমুল বিবাদ

“সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ” কর্মসূচির হোর্ডিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম নিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে। অভিযোগ উঠেছে, রেল পুলিশ (আরপিএফ) সেই হোর্ডিং খুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় টাউন থানার পুলিশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ টানাপোড়েন শুরু হয়। অবশেষে আরপিএফের আধিকারিকরা কার্যত ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় খড়্গপুর এলাকায়। রাজ্য সরকারের জনসচেতনতামূলক অভিযান ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’-এর অংশ হিসেবে কিছু হোর্ডিং লাগানো হয়েছিল, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল। অভিযোগ, রেল পুলিশ সেই হোর্ডিংগুলি সরানোর চেষ্টা করে। এই ঘটনা নজরে আসার পরই স্থানীয় টাউন থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আরপিএফ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে।
সূত্রের খবর, হোর্ডিং সরানোর কারণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। রাজ্য সরকারের জনসচেতনতামূলক একটি কর্মসূচির হোর্ডিং কেন রেল পুলিশ সরাতে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন টাউন থানার আধিকারিকরা। অন্যদিকে, আরপিএফ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে এই কাজ করার দাবি তোলে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই টানাপোড়েন।
অবশেষে, পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে দেখে আরপিএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা হস্তক্ষেপ করেন। জানা গেছে, টাউন থানার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর আরপিএফ আধিকারিকরা তাদের কাজের জন্য একপ্রকার ক্ষমা চেয়ে নেন। এরপর হোর্ডিংগুলি আর সরানো হয়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রেল পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এটি একটি জনমুখী কর্মসূচি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছিল। এমন একটি কাজে রেল পুলিশের হস্তক্ষেপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যদিও বিজেপি বা রেল পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা অভিযান, যা রাজ্যজুড়ে পালিত হয়। এই কর্মসূচির হোর্ডিং নিয়ে এমন বিতর্কে স্থানীয়দের মধ্যেও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি রেল এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বলে মনে করছেন অনেকে।