রাহুলের মন্তব্যে আপত্তি CPIM-এর, INDIA-র ভার্চুয়াল বৈঠকে কী বললেন অভিষেক?

সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে শাসকদলকে কোন কোন ইস্যুতে চেপে ধরা যায়, সেই রণনীতি স্থির করতে শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠক করল INDIA জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ১০, জনপথ থেকে যোগ দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ জোটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকের শুরুতেই রাহুল গান্ধীর একটি মন্তব্যে বামেরা আপত্তি তোলায় আলোচনা কিছুটা উত্তপ্ত হয়।

রাহুল-বামেদের আদর্শগত সংঘাত প্রকাশ্যে

বৈঠকের পূর্বেই সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। রাহুল গান্ধী আরএসএস এবং কমিউনিস্টদের একই ব্র্যাকেটে ফেলায় সিপিআই ও সিপিআইএম ক্ষুব্ধ। এমএ বেবি বলেন, “লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেছেন আদর্শগত ভাবে আরএসএস এবং সিপিআইএম-এর বিরুদ্ধে তিনি লড়বেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক। আশা করব উনি মন্তব্য করার আগে আরও সচেতন হবেন। সমালোচনা হতেই পারে কিন্তু আমরা কখনওই বিজেপি এবং কংগ্রেসকে একই আসনে বসাব না। কিন্তু উনি তা করলেন।” সিপিআই-এর সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা সরাসরি রাহুলের নাম না করলেও, বৈঠকে এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করেন। সিপিআইএম সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্যও সতর্ক করে বলেন, “আপনি যদি সত্যি সত্যিই বিজেপি এবং আরএসএস-এর বিরুদ্ধে লড়তে চান তবে আপনাকে সিপিআইএম-এর সঙ্গে হাত মিলেই লড়তে হবে। নাহলে সেটা মক ফাইট হয়ে যাবে।”

কেন্দ্রকে কোণঠাসা করার প্রধান ইস্যুগুলি

এই মতবিরোধ সত্ত্বেও আসন্ন অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি-কে কোণঠাসা করার বিষয়ে বিরোধী দলগুলি ঐকমত্যে পৌঁছেছে। যে বিষয়গুলি নিয়ে সংসদে ঝড় তুলতে প্রস্তুত INDIA জোট, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

পহেলগাঁও কাণ্ড এবং তার পরবর্তীতে ‘অপারেশন সিঁদুর’।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা।

বিহারের ভোটার সমীক্ষা।

আমেরিকা, চিন ও পাকিস্তান নিয়ে ভারতের বিদেশ নীতি।

ডিলিমিটেশন।

পিছিয়ে পড়া জাতি ও দলিতদের উপর অত্যাচার।

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা।

সরকারি এজেন্সি দিয়ে বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন

বৈঠকে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, অভিষেক উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে দেশের মানুষ অন্ধকারে। কেন্দ্রীয় সরকার কিছুই জানাচ্ছে না এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া দেখে দেশের মানুষকে সব জানতে হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিদেশে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে কী লাভ হয়েছে? “ক’টা দেশ ভারতের পক্ষ নিল? এশিয়ার কোনও দেশ তো পাকিস্তানের নাম করে সমালোচনা পর্যন্ত করলো না,” – বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।

বৈঠকে সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও জয়রাম রমেশ, এমএ বেবি, হেমন্ত সোরেন, তেজস্বী যাদব, তিরুচি শিবা, শরদ পাওয়ার, মল্লিকার্জুন খাড়গে, রামগোপাল যাদব, ডি রাজা, উদ্ধব ঠাকরে, সঞ্জয় রাউত, ওমর আবদুল্লা-সহ জোটের অন্যান্য শরিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে এই রণনীতি বৈঠক দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।