SPORTS: ডার্বির টিকিট বিক্রি শুরু, জেনেনিন কোথায় পাবেন টিকিট ও কত দাম?

এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়া বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা ডার্বিকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আইএফএ। আগামীকালের মেগা ম্যাচের জন্য কল্যাণী স্টেডিয়ামকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। তবে মাঠের বাইরে এই উন্মাদনার মধ্যেই দানা বাঁধছে একাধিক বিতর্ক, বিশেষ করে টিকিট বণ্টন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। আজ, শনিবার থেকে শুরু হয়েছে অনলাইন টিকিট বিক্রি, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

আইএফএ-এর ঘোষণা অনুযায়ী, এই ডার্বি উপভোগ করতে পারবেন মোট ১০ হাজার দর্শক। এর মধ্যে দুই প্রধান ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে ১ হাজার করে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৮ হাজার টিকিটের মধ্যে কিছু আইএফএ ও ক্লাব পদাধিকারীদের জন্য সংরক্ষিত রেখে অবশিষ্ট টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। আজ থেকেই ‘ডিসট্রিক্ট বাই জোম্যাটো’ অ্যাপে ১৫০ টাকা মূল্যে অনলাইন টিকিট উপলব্ধ।

আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত টিকিট বণ্টন প্রসঙ্গে বলেন, “এই ডার্বিতে আমরা দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছি। তাঁরা যাতে খেলা দেখতে এসে ভালো পরিষেবা পান, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি জানান, অনলাইন টিকিট কাটলে একটি কিউআর কোড পাওয়া যাবে, যা স্ক্যান করেই সরাসরি মাঠে প্রবেশ করা যাবে, টিকিট রিডিম করার ঝামেলা থাকবে না। এটি দর্শকদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর।

কল্যাণী স্টেডিয়ামকে ডার্বির জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। দর্শকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে একাধিক নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। গ্যালারিতেই বিক্রেতারা খাবার নিয়ে পৌঁছাবেন, যা দর্শকদের বাইরে গিয়ে খাবার সংগ্রহের ঝক্কি কমাবে। গ্যালারির নিচে থাকছে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা। প্রতিটি গ্যালারিতে ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে জরুরি পরিস্থিতির জন্য।

সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ওপর। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের গ্যালারি যাতে কোনোভাবেই মিশে না যায়, তার জন্য আলাদা ফেন্সিং-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এক গ্যালারির দর্শক অন্য গ্যালারিতে যেতে পারবেন না। এছাড়াও, দর্শকদের জন্য থাকছে ডিপোজিট কাউন্টার, যেখানে তাঁরা হেলমেট, ব্যাগ ইত্যাদি নিরাপদে রাখতে পারবেন। ম্যাচের আকর্ষণ বাড়াতে মাঠে ঘুরে বেড়াবে ঘরোয়া লিগের ম্যাসকট ‘গোপাল ভাঁড়’।

মোহনবাগানের অসন্তোষ, ইস্টবেঙ্গলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
তবে আইএফএ-এর এই আয়োজনে পুরোপুরি খুশি নন দুই প্রধানের কর্তারা। মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বসু টিকিট বণ্টন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ডার্বিতে ক্লাবগুলোকে আরও বেশি টিকিট দেওয়া উচিত। এই ম্যাচটার দিকেই তো সবাই তাকিয়ে থাকে। প্রত্যাশা অনেক বেশি।” সল্টলেকের পরিবর্তে কল্যাণী স্টেডিয়ামে ডার্বি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সুরক্ষাজনিত কারণে যে ম্যাচ মাত্র সাতদিন আগে বাতিল হয়েছিল, সেই একই স্থানে কীভাবে আবার খেলা হচ্ছে, তা নিয়েও তাঁর প্রশ্ন। “কল্যাণীতে এই ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার কোনও মানে হয় না,” মন্তব্য সৃঞ্জয় বসুর।

অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ডার্বিতে দুই ক্লাবকে এক হাজার করে টিকিট দেবে শুনেছি। সেটা যদি দু’হাজার হত, তাহলে ভালো হত। এই ম্যাচে টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে।” তবে, ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েও তিনি বলেছেন, “কল্যাণীতে খুব বেশি মানুষ স্টেডিয়ামে এসে খেলা দেখতে পারবে না। মাত্র দশ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারবে। সেটাও ঠিক।”

একদিকে আইএফএ-এর প্রস্তুতি ও চমকের ঘোষণা, অন্যদিকে দুই প্রধানের কর্তাদের অসন্তোষ— সব মিলিয়ে কল্যাণী ডার্বি মাঠে নামার আগেই বিতর্কের শিরোনামে উঠে এসেছে। দর্শকরা কি শেষ পর্যন্ত একটি মসৃণ এবং উপভোগ্য ডার্বির সাক্ষী হতে পারবেন, নাকি এই বিতর্কগুলি ম্যাচের উত্তেজনাকে প্রভাবিত করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।