স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে আপত্তি! ডিভোর্স চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ মহিলা, অতঃপর….

স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে অস্বীকার করা এবং বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে বারবার সন্দেহ করা ‘নিষ্ঠুরতা’র সমতুল্য বলে রায় দিল বম্বে হাইকোর্ট। পারিবারিক আদালতের বিবাহ বিচ্ছেদের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এক মহিলার করা আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল যে এই বিয়েতে আর কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা নেই। একইসঙ্গে, আদালতের নির্দেশ শুধু বিবাহ বিচ্ছেদের নির্দেশ বহাল রাখেনি, বরং মহিলার মাসিক ১ লক্ষ টাকা ভরণপোষণের দাবিও খারিজ করে দিয়েছে।

বিচারপতি রেবতী মোহিতে দেরে এবং বিচারপতি নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় প্রদান করে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে যে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে রাজি না হওয়াতে ভুল নেই, তবে এর জন্য স্বামীকে প্রেমের সম্পর্কে সন্দেহ করা নিষ্ঠুরতার নামান্তর। আদালতের মতে, স্ত্রীর এই ধরনের আচরণ স্বামীর মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২০১৩ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। ২০১৫ সালে স্বামী পুনের পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন জানান, যা আদালত মঞ্জুর করে। পারিবারিক আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মহিলা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

আদালতে মহিলা দাবি করেন যে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে অত্যাচার করত এবং তিনি এখনও তাঁর স্বামীকে ভালোবাসেন। অন্যদিকে, স্বামীর অভিযোগ ছিল যে তাঁর স্ত্রী শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইতেন না, তাঁকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে বারবার সন্দেহ করতেন এবং বন্ধু-বান্ধব ও কর্মীদের সামনে তাঁকে নানাভাবে বিব্রত করতেন। স্বামীর এই অভিযোগগুলি বিবেচনা করেই আদালত বিবাহ বিচ্ছেদের নির্দেশ বহাল রেখেছে। হাইকোর্টের এই রায় বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।