ট্রেনে ৫০০ জনের বেশি যাত্রী, হঠাৎ চলন্ত এক্সপ্রেসে আগুন রাজস্থানে! কেমন আছেন সবাই?

শনিবার ভোর রাতে রাজস্থানের সেন্দ্রা স্টেশনের কাছে বান্দ্রা থেকে দিল্লিগামী গরিব রথ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন লেগে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। সৌভাগ্যবশত, চালকের তৎপরতা এবং যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ফলে ৫০০ জনের বেশি যাত্রী অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে শর্টসার্কিট বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে রাত ৩টা নাগাদ, যখন মুম্বইয়ের বান্দ্রা টার্মিনাস থেকে দিল্লির সরাই রোহিল্লা জংশনগামী গরিব রথ এক্সপ্রেস সেন্দ্রা স্টেশন অতিক্রম করছিল। ট্রেনটিতে প্রায় ৫০০-র বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হঠাৎ করেই ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন কিছু জাগ্রত যাত্রী। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া থেকে আগুন ধরে যায়।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং হুলস্থুল পড়ে যায়। তবে লোকো পাইলটকে দ্রুত বিষয়টি জানানো হলে তিনি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে পদক্ষেপ করেন। যদিও ওই স্থানে ট্রেনের কোনও নির্ধারিত স্টপেজ ছিল না, কিন্তু সে সময় ট্রেনের গতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় চালক দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দিতে সক্ষম হন। সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুন ইঞ্জিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং অন্য কোনও কোচে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
যাত্রীরা চালকের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করে বলেছেন, সময় মতো আগুন দেখতে পেয়ে লোকো পাইলটকে জানানো না হলে এবং তিনি ট্রেন না থামালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। রেলওয়ে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে শর্টসার্কিট অথবা ইঞ্জিনের কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে আজমেঢ়-বিওয়ার রুটে প্রায় ৬ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে, যার ফলে অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচিতেও প্রভাব পড়ে। রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিকল্প ট্রেনের ব্যবস্থা করে আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে।