অবৈধ কল সেন্টারে পুলিশের হানা…! অতঃপর যা ঘটল, রাতারাতি বদলে গেল ১৮ প্রতারকের ভাগ্য

থমথমে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বজ্রমুঠির হানায় কেঁপে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাটগাছা অঞ্চলের জোধ ভীম রোড। কলকাতা সাইবার থানার নেতৃত্বে এক শ্বাসরুদ্ধকর যৌথ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো একটি অবৈধ কল সেন্টার, যার জাল ছড়িয়ে ছিল দেশের আনাচে-কানাচে। রাতারাতি পাল্টে গেল ১৮ জন প্রতারকের ভাগ্য, যারা এতদিন সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে গড়ে তুলেছিল এক অন্ধকার সাম্রাজ্য।

সুনির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ডেটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের আধিকারিকরা স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় এই অতর্কিত অভিযান চালান। রাতভর এই অপারেশনে একে একে গ্রেফতার করা হয় ১৮ জন অভিযুক্তকে। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চক্রের মূল পাণ্ডা ওয়াদুদ আহমেদ এবং তার সহযোগী মজিদ। এই দু’জনের হাতেই ছিল অসংখ্য মানুষের কষ্টের উপার্জনের লুঠের চাবিকাঠি।

অভিযান এতটাই দ্রুত এবং নিখুঁত ছিল যে প্রতারকরা বিন্দুমাত্র প্রতিরোধের সুযোগ পায়নি। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রতারণার বিপুল সরঞ্জাম – ২৪টি মোবাইল ফোন, ২২টি কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, ২টি রাউটার, ৬টি হেডসেট। শুধু তাই নয়, পুলিশ হাতে পেয়েছে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ নথি: কাস্টমার ডেটা, কল লিডস, স্ক্রিনশট, ডায়ালার সফটওয়্যার এবং রিমোট অ্যাক্সেস সংক্রান্ত তথ্য। এই প্রতিটি প্রমাণই নির্দেশ করছে একটি সুসংগঠিত এবং পেশাদার প্রতারক চক্রের দিকে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই কল সেন্টারটি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করা হচ্ছিল। তারা ঠিক কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করত, সেই বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই চক্রের পেছনে আর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত রয়েছে কিনা, সেই জট খুলতেও তদন্তকারীরা বদ্ধপরিকর।

ইতিমধ্যেই পুলিশ এই অবৈধ কল সেন্টারটি সিল করে দিয়েছে। কলকাতার বুকে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে এটি এক বিশাল সাফল্য। এই অভিযান আবারও প্রমাণ করে দিল যে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আড়ালে অপরাধের জাল বুনলেও, কলকাতা পুলিশের তীক্ষ্ণ নজর এবং দৃঢ় পদক্ষেপের কাছে শেষ পর্যন্ত তা ছিন্নভিন্ন হতে বাধ্য। অপরাধীরা যতই লুকানোর চেষ্টা করুক না কেন, আইন তার দীর্ঘ হাত নিয়ে তাদের কাছে ঠিক পৌঁছে যাবে।