বঢরা ইস্যুতে রাজনৈতিক পারদ! ED-র চার্জশিট বনাম কংগ্রেসের ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ অভিযোগ

রিয়েল এস্টেট মানি লন্ডারিং মামলায় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট বঢরার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) চার্জশিট জমা দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্কের পারদ চড়ছে। কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বঢরার পাশে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইডি-র দায়ের করা চার্জশিটে রবার্ট বঢরা এবং তাঁর সংস্থা স্কাই লাইট হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেডের নাম উঠে এসেছে। ইডি-র দাবি, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৮৩-তে ৩.৫৩ একর জমি জাল নথির মাধ্যমে কেনা হয়েছিল এবং বঢরা তাঁর প্রভাব খাটিয়ে ওই জমির জন্য বাণিজ্যিক লাইসেন্স পেয়েছিলেন। এই মামলার সূত্র ধরে ইডি বঢরা ও তাঁর সংস্থার প্রায় ৩৭.৬৪ কোটি টাকা মূল্যের ৪৩টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে এর তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “গত ১০ বছর ধরে এই সরকার আমার জামাইবাবুকে হেনস্থা করে চলেছে। এই নতুন চার্জশিট সেই ধারাবাহিক ‘উইচ-হান্ট’-এরই অংশ।” তিনি রবার্ট, প্রিয়াঙ্কা ও তাঁদের সন্তানদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে বলেছেন যে, তারা “বিদ্বেষপূর্ণ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপবাদ ও হেনস্থার” শিকার হচ্ছেন, কিন্তু “সত্যের জয় হবেই।” কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সুরজেওয়ালাও এই অভিযোগের সারবত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “এখন কি জমি কেনাবেচা অপরাধ হয়ে গেছে?”
রবার্ট বঢরার অফিস থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে চার্জশিটকে “বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই ধারাবাহিক প্রতিফলন” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বঢরা কর্তৃপক্ষকে সবরকম সহযোগিতা করার কথা জানিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন এবং নিজের সম্মান রক্ষায় আদালতে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, আর কংগ্রেস এই পুরো ঘটনাকে বিজেপি সরকারের ‘বদলার রাজনীতি’ হিসেবে দেখছে। এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরিণতি কী হয় এবং আদালতে শেষ পর্যন্ত কোন রায় আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।