হাসপাতালের ICU-তে চলল পর পর গুলি, বেডেই লুটিয়ে পড়ল একাধিক খুনে অভিযুক্ত বন্দি

বিহারে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির আরও এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। বৃহস্পতিবার সকালে পাটনার পারস হাসপাতালে এক ভয়ঙ্কর ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একাধিক খুনের মামলায় অভিযুক্ত এক বন্দিকে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (ICU)-এ ঢুকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুষ্কৃতী। এই ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত বন্দির নাম চন্দন মিশ্র, যার বাড়ি বিহারেই। সে খুনের মামলায় প্রথমে বক্সার জেলে বন্দি ছিল এবং পরে তাকে ভাগলপুর জেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েকদিন আগে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য পারস হাসপাতালের ICU-তে ভর্তি করা হয়েছিল।

এদিন সকালে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী অতর্কিতে হাসপাতালে চড়াও হয়। তারা সরাসরি ICU-তে প্রবেশ করে চন্দনকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। হাসপাতালের বিছানাতেই চন্দনের মৃত্যু হয়। পাটনার সিনিয়র পুলিশ সুপার কার্তিকেয় কুমার এই ঘটনাকে দুই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে পুরনো গোলমালের জের বলে সন্দেহ করছেন। তিনি নিজে পারস হাসপাতালে পৌঁছে তদন্তের তদারকি করছেন।

পুলিশ আরও জানায় যে, ICU-তে প্রবেশকারী দুষ্কৃতীদের প্রত্যেকের হাতে পিস্তল ছিল। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে পাটনার একাধিক স্থানে পুলিশের কয়েকটি দল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

চন্দন মিশ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধ, এমনকি বেশ কয়েকটি খুনের অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি সে নির্মাণ ব্যবসা শুরু করেছিল। পুলিশের সন্দেহ, এই ব্যবসা সংক্রান্ত শত্রুতার জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বক্সার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, কারণ সন্দেহ করা হচ্ছে চন্দনের সঙ্গে বক্সারের কোনো দুষ্কৃতী দলের পুরনো শত্রুতা ছিল।

গত কয়েকদিনে বিহারের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনা বাড়ছে, তাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। কিছুদিন আগেই পাটনায় বিজেপি নেতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোপাল খেমকাকে তাঁর বাড়ির সামনেই গুলি করে মারা হয়েছিল। এরপর পাটনার রামকৃষ্ণ নগরে বিক্রম ঝা নামে অন্য এক বিজেপি নেতাকেও গুলি করে হত্যা করে দুষ্কৃতীরা। গত রবিবার পাটনায় একজন আইনজীবী গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন এবং একই দিনে সারন জেলার একজন শিক্ষকও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এই সমস্ত ঘটনা বিহারে ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।