“প্রশ্নে বিনীত গোয়েলের সাথে CBI-বন্ধুত্ব”-RG Kar মামলায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বুধবার শিয়ালদহ আদালতে তীব্র প্রশ্ন তুললেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীরা। আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং সিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর সম্পত মিনার ‘ব্যাচমেট’ সম্পর্ক। ২০২৪ সালের ৯ই আগস্ট, ঘটনার সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়েল, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে অভিযুক্তদের বাঁচানোর। পরে আদালতের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয় সিবিআই, আর সেই সিবিআইয়ের উচ্চপদে আসীন বিনীতেরই ব্যাচমেট সম্পত মিনা।
বুধবার আদালতে নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি বিনীত ও সম্পতের সম্পর্কের উদাহরণ টেনে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। ফিরোজ দাবি করেন যে, বিনীত ও সম্পতের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ একসঙ্গে হয়েছিল, তাই বিনীতের বিরুদ্ধে সিবিআই কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
সিবিআইয়ের সরকারি আইনজীবী অনুরাগ মোদী এই অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে বলেন, ‘ব্যাচমেট হওয়াটা অপরাধ নয়। বিনীতের বিরুদ্ধে অপরাধে যুক্ত থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি, তাই সিবিআই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় ছাড়া আর কেউ জড়িত নয়।’
এদিন আরজি কর ধর্ষণ-খুন মামলায় সিবিআই শিয়ালদহ এসিজেএম অরিজিৎ মণ্ডলের কাছে আরও একটি স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন করে সাতজনের বয়ান নেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সব সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সঞ্জয় ছাড়া আর কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
তবে ফিরোজ সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি উত্তরপ্রদেশের হাথরস মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে চারজন অভিযুক্তের মধ্যে তিনজন খালাস পেয়েছিল এবং একজনের সাজা হয়েছিল। সেই মামলাতে সিবিআই গণধর্ষণের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। উল্লেখ্য, আরজি কর মামলার বর্তমান তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজাই হাথরস মামলারও তদন্তকারী অফিসার ছিলেন। সিবিআই অবশ্য এই অভিযোগ মানতে রাজি হয়নি।
এডুলজি আরও অভিযোগ করেন, নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে আরজি করের আটতলায় ইন্সট্রুমেন্ট রাখা ঘরটির ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য সিবিআইকে বারবার অনুরোধ করা হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে সেন্ট্রাল ফরেন্সিক টিম যায়নি।
নির্যাতিতার আইনজীবী অর্মত্য দে অভিযোগ করেন, ‘সেমিনার রুমে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সিবিআই নিশ্চিত হচ্ছে সঞ্জয় ছাড়া কেউ নেই। অথচ ওখানে যাওয়ার অন্য গেট ও লিফট-সিঁড়ি আছে।’
সিবিআইয়ের কৌঁসুলি পার্থ সারথি দত্ত অবশ্য জানান, আরজি কর ছাড়াও বহু রাস্তার ট্র্যাফিকের সিসিটিভি খতিয়ে দেখে সিবিআই নিশ্চিত হয়েছে।
নির্যাতিতার আইনজীবী রাজদীপ হালদার জানতে চান, যে চারজন চিকিৎসক শেষবার নির্যাতিতার সঙ্গে ডিনার করেছিলেন, তাঁদের কেন হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হলো না? সিবিআইয়ের দাবি, প্রায় ১০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই চার চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদের পর দু’জন আদালতে সাক্ষীও দিয়েছেন। অভিযুক্ত সঞ্জয়ের ডিএনএ নমুনা ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গেছে এবং চারজনের ‘লাই ডিটেক্টর টেস্ট’ করা হয়েছে।
এদিকে, আরজি কর মামলায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় বেকসুর খালাসের আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, যার শুনানি সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা। এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালত কক্ষে এবং বাইরে উভয় স্থানেই জল্পনা তুঙ্গে।