‘বাংলাদেশি’র খোঁজে সব রাজ্যে কেন হঠাৎ অভিযান?”-কেন্দ্রকে প্রশ্ন করে তোপ হাইকোর্টের

দেশের বিভিন্ন রাজ্যে হঠাৎ করে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক, হেনস্থা এবং বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের কাছে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তলব করেছে, প্রশ্ন তুলেছে এই অভিযান শুরু হওয়ার সময়কাল এবং উদ্দেশ্য নিয়ে।
আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল অশোক চক্রবর্তীর কাছে জানতে চায়, ‘হঠাৎ একসঙ্গে দেশের সব রাজ্যে ‘বাংলাদেশি’ খোঁজার প্রক্রিয়া কেন শুরু হলো? দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করে হেনস্থা, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ হঠাৎ করে একই সময়ে কেন আসছে?’ বিচারপতিরা আরও বলেন, ‘কেনই বা ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) একসঙ্গে নির্দেশ দিয়ে তাঁদের ‘ডিপোর্ট’ করা শুরু করল?’ আদালত কেন্দ্রকে এই বিষয়ে যে কোনো ধোঁয়াশা দূর করতে বলেছে, অন্যথায় জটিলতা ও জল্পনা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে।
গত সপ্তাহখানেক ধরে দিল্লি, গুজরাট, ওডিশা, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ-সহ বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে হেনস্থা, নিগ্রহ, এমনকি গ্রেফতারির অভিযোগ উঠছে। এই বিষয়টি আর কেবল রাজনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আদালতের হস্তক্ষেপও চাইছে।
বীরভূমের পাইকরের ছয়জন বাংলাভাষীকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বুধবার হাইকোর্টে জানিয়েছে যে, ওই পরিবারগুলো অবৈধভাবে এদেশে বাস করছিল এবং FRRO-এর অনুমতি নিয়েই তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র আরও দাবি করেছে যে, ওই পরিবারগুলো দিল্লি হাইকোর্টেও মামলা করেছে, যা কলকাতা হাইকোর্টে গোপন করা হয়েছে। তাই এই মামলাটি খারিজ করা উচিত।
তবে বিচারপতি চক্রবর্তী ও বিচারপতি মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রকে এই বিষয়ে নতুন করে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলেছে। হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, কেন এই পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে পাঠানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণও তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে পাঠানোর FRRO-এর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টেও নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর পর ওড়িশায় ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে দুজন শ্রমিককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আরও অনেক শ্রমিক সেখানে আটকে রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্ট ওড়িশা প্রশাসনকে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছিল। ওড়িশার অ্যাডভোকেট জেনারেল আজ বিচারপতি চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে সরকারের পক্ষে সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্য জানানোর আবেদন করেছেন। ফলস্বরূপ, আদালত আগামী ২৩শে জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে।