ছেলের দেহ ফ্রিজে রাখা, মালদায় দু’সপ্তাহ ধরে আগলে রয়েছেন মা-বাবা, জেনেনিন কেন?

এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মালদার মানিকচকে এক বাবা-মা তাঁদের মৃত কিশোর ছেলের দেহ প্রায় ১৫ দিন ধরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তাদের একটাই দাবি, ছেলের রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক তদন্ত এবং বিচার। মালদার ভূতনি থানার হিরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেদারটোলা গ্রামের এই ঘটনা জনমনে গভীর শোক ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

জানা গেছে, মানিকচকের একটি বেসরকারি স্কুলের হোস্টেলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শ্রীকান্ত মণ্ডলের (১৩) রহস্যজনক মৃত্যু হয় গত ২ জুলাই রাতে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও, পরিবারের অভিযোগ, শ্রীকান্তকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। শ্রীকান্তের বাবা প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি।

ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে এবং সঠিক বিচার না পাওয়ায়, পরিবার প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (যা আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়েছিল) প্রত্যাখ্যান করে। এরপর তারা দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবিতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত, তারা নিজেদের ছেলের দেহ বাড়িতেই বরফ ও ফ্রিজের মধ্যে সযত্নে সংরক্ষণ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

অবশেষে, দীর্ঘ ১৫ দিন অপেক্ষার পর, কলকাতা হাইকোর্ট দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে মানিকচক থানার তদন্তকারী অফিসারকে শ্রীকান্তের দেহ কল্যাণী এইমসে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্তের সময় সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফি করা হবে। যদি দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কোনো ভিন্ন তথ্য উঠে আসে, তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তকারী অফিসারকে তা জানাবে।

এই ঘটনা একদিকে যেমন এক বাবা-মায়ের অসীম ভালোবাসা ও ন্যায়বিচারের জন্য তাদের দৃঢ় সংকল্পকে তুলে ধরেছে, তেমনই অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সকলের চোখ এখন কল্যাণী এইমসের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে, যা হয়তো শ্রীকান্তের মৃত্যুর আসল কারণ উন্মোচন করবে এবং তার পরিবারকে ন্যায়বিচার দেবে।