‘আমার কবরে ৪০টি গোলাপ দিও’, দাদাকে চিঠি লিখে আত্মঘাতী বোন! নেপথ্যে কি কারণ?

বীরভূমের রামপুরহাটের একটি মেসে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিঠিতে লেখা, “কায়েম তুমি ৪০টি গোলাপ দিও আমার কবরে।” এই ‘কায়েম’ সম্পর্কে মৃতার পিসতুতো দাদা হওয়ায়, প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনেই আত্মহত্যার তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে, মৃতার পরিবারের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে এক শিক্ষকের হাত রয়েছে। পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, মৃত ছাত্রী বীরভূমের চাঁদপাড়া হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণিতে পড়ত এবং রামপুরহাটের একটি মেসে থাকত। মঙ্গলবার দুপুরে ওই ছাত্রীর বাবাকে ফোন করে এক শিক্ষক নাবালিকার দেহ উদ্ধারের খবর দেন। খবর পেয়েই পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এদিকে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে এবং তল্লাশি চালিয়ে একটি সুইসাইড নোট পায়। সেই চিঠিতে লেখা ছিল, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। কায়েম তুমি ৪০টি গোলাপ দিও আমার কবরে।” এই বাক্যটিই রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
তদন্তে জানা যায়, চিঠিতে উল্লেখিত ‘কায়েম’ হলেন মৃতার পিসতুতো দাদা। স্থানীয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, যা পরিবার মেনে নিতে পারেনি। এই সম্পর্কের টানাপোড়েনই চরম সিদ্ধান্তের কারণ হতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা।
তবে, মৃতার পরিবার এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাদের দাবি, এই ঘটনার পেছনে একজন শিক্ষক দায়ী। যদিও অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলছেন, তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং শীঘ্রই ঘটনার পেছনের আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশাবাদী। এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে।