যুবসমাজে বেকারত্বের হার বেড়ে ১৫.৩% ! মোদী সরকারের নিজস্ব রিপোর্টেই ফাঁস উদ্বেগজনক তথ্য

বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতি বছর ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতির ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও, দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতি যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। বরং মোদি সরকারের নিজস্ব পরিসংখ্যানই এখন দেশের যুবসমাজের বেকারত্বের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ণ মন্ত্রকের প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, গত জুন মাসে দেশের ১৫-২৯ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৩ শতাংশ, যা মে মাসের তুলনায় ০.৩ শতাংশ বেশি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৫.৩ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে, যা গত এপ্রিল মাসের (৫.১%) তুলনায় সামান্য বেশি। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুবসমাজের মধ্যে বেকারত্বের হার। গত মে মাসে এই হার ১৫ শতাংশ থাকলেও, এক মাসের ব্যবধানে তা ১৫.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে যুবতীদের ক্ষেত্রেও; মে মাসে ১৬.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে জুন মাসে এই হার দাঁড়িয়েছে ১৭.৪ শতাংশে।
শহর ও গ্রামের চিত্র:
রিপোর্ট আরও বলছে, জুনে শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। মে মাসে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ১৭.৯ শতাংশ, জুন মাসে তা বেড়ে ১৮.৮ শতাংশ হয়েছে। গ্রামের ক্ষেত্রেও বেকারত্বের হার সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১৩.৭ শতাংশ থেকে ১৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বে সামান্য স্বস্তি:
তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হলো, সামগ্রিকভাবে দেশের মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশের মহিলাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল ৫.৮ শতাংশ, যা জুনে কমে ৫.৬ শতাংশ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর গভীর প্রভাব ফেলবে। একদিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবকদের মধ্যে কর্মসংস্থানের অভাব, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব অর্থনীতির গতিকে শ্লথ করতে পারে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের এই ফারাক সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি উন্নত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর।