দুর্ঘটনা এড়াতে অভিনব উদ্যোগ! মেট্রো চালকদের মানসিক সুস্থতায় কি করলে কলকাতা মেট্রো?

অন্ধকার সুড়ঙ্গের বুক চিরে তীব্র গতিতে ছুটে চলা ট্রেন, কিংবা মাটির উপর দিয়ে দ্রুত বেগে যাত্রী বহনকারী মেট্রো – চালকদের কাছে প্রতিনিয়ত এক বড় চ্যালেঞ্জ। কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্ক এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধির সাথে সাথে চালকদের উপর বাড়ছে মানসিক চাপ। আর এই চাপেই যাতে তাঁদের মনসংযোগে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত না ঘটে, সেই লক্ষ্যে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। মেট্রো চালক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে চালকদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
‘মোটরম্যান কম’: ইউনিয়নগুলির অভিযোগ, বাড়ছে কাজের চাপ
মেট্রো ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, প্রয়োজনের তুলনায় মোটরম্যানের সংখ্যা কম। এই লোকবলের অভাবে চালকদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে। আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার পরেও অনেক সময় চালকরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর। অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে চালকদের মনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা সামান্য ভুলেই বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বাহানাগা-সহ একাধিক ট্রেন দুর্ঘটনায় চালকদের ক্লান্তি ও অবসাদের বিষয়টি প্রকটভাবে উঠে আসার পর এই বিষয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ আরও সচেতন হয়েছে।
পরিবারের কাছে সহযোগিতা চাইছে কর্তৃপক্ষ
চালকরা যাতে বাড়িতে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পান এবং তাঁদের মন-মেজাজ ঠিক রাখতে পারেন, সে জন্য মেট্রো কর্তৃপক্ষ এবার চালকদের সহধর্মিনী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে সহযোগিতা চাইছেন। এই লক্ষ্যে কলকাতা মেট্রোর চালকদের স্ত্রী ও পরিবারের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মেট্রো কর্তারা চালকদের মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত যোগাভ্যাস এবং মেডিটেশনের পরামর্শও দিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, ট্রেন চালানোর জন্য চালকদের মানসিক চাপমুক্ত থাকা সবার আগে দরকার। তাঁদের কাজে মস্তিষ্ক স্থির ও গভীর মনসংযোগ অপরিহার্য। ট্রেনের সামনের ট্র্যাক খেয়াল রাখার পাশাপাশি সিগন্যালের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হয়। ক্ষণিকের ভুলেই ঘটতে পারে বড় বিপদ, কারণ সকল যাত্রীর সুরক্ষার দায়িত্ব থাকে মেট্রো চালকদের কাঁধে। তাই তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে নিতে হয় এবং এর জন্য মানসিক শান্তি সবার আগে প্রয়োজন। আর সেই শান্তি বজায় রাখতে পারিবারিক জীবন ঠিক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কর্মীর অভাবই কি মূল কারণ?
যদিও মেট্রো রেলের জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন যে, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং তাঁরা চালক ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। তাঁর দাবি, মেট্রোতে অতিরিক্ত চাপ নেই এবং যথাযথ কর্মীও রয়েছে। তবে কর্মীরা বলছেন, ক্লান্তি-অবসাদের অন্যতম কারণই হলো লোকবলের অভাব। রেল হোক বা মেট্রো, উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনের তুলনায় চালকের সংখ্যা কম বলেই কর্মীদের দাবি। তাই কর্মীর অপ্রতুলতার উপরও জোর দিতে দাবি জানিয়েছেন মেট্রো কর্মীরা।
এই অভিনব উদ্যোগ একদিকে যেমন মেট্রো চালকদের মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তেমনই আবার কর্মীদের লোকবলের অভাবের দাবিটি নতুন করে সামনে নিয়ে আসছে। এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।