SSC চাকরিহারাদের নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার! রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের দাবিতে এসএসসি চাকরিহারাদের নবান্ন অভিযান আজ ধুন্ধুমার রূপ ধারণ করে। পুলিশের কড়া ব্যারিকেড এবং বিশাল বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ টানাপোড়েনের পর অবশেষে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেই আলোচনা কোনো ফলপ্রসূ হয়নি বলে দাবি করেছেন চাকরিহারারা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে তাঁরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।
“দাগিদের প্রোটেকশন, যোগ্যদের ব্যারিকেড!” – আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ
সকাল থেকেই যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের ডাকে নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে হাওড়ার মল্লিক ফটকের কাছে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ প্রায় দু’মানুষ সমান উঁচু লোহার ব্যারিকেড বসিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকের চেষ্টা করে। গজাল দিয়ে মাটিতে আটকানো ব্যারিকেডের উপরে ছিল লোহার ক্লিপ, যা দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে রাখার প্রবল চেষ্টা করা হয়। বিশাল পুলিশবাহিনী, RAF এবং কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল। মিছিলে বাধা পেয়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি হয়।
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর প্রশাসনের প্রস্তাবে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। কিন্তু বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে তাঁরা তীব্র হতাশা ব্যক্ত করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, সেখানেও কোনো সমাধানসূত্র বের হয়নি। উল্টে তাঁদের অভিযোগ, “হাবেভাবে এদিনও দাগিদের (অযোগ্যদের) পাশেই দাঁড়িয়েছে সরকারপক্ষ।” এই মন্তব্য থেকেই তাঁদের ক্ষোভের তীব্রতা স্পষ্ট বোঝা যায়।
রুদ্ধদ্বার বৈঠক নয়, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে আন্দোলন!
আন্দোলনকারীরা প্রথমে আজকের মধ্যেই যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের ডেডলাইন দিয়েছিল এবং রাতভর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে তাঁদের নতুন সিদ্ধান্ত আরও কঠোর। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এরপর থেকে সরকারের সঙ্গে আর কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবেন না তাঁরা। তাঁদের লক্ষ্য এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে গিয়ে আন্দোলন করা। যোগ্যদের তালিকা প্রকাশের দাবিতে এই চরম পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
নবান্ন অভিযানের এই ঘটনা আবারও পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতির জেরে সৃষ্ট গভীর ক্ষোভ এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের অসহায়ত্বকে সামনে নিয়ে এল। মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক নিষ্ফল হওয়ায় আন্দোলন যে সহসা থামছে না, আজকের ঘটনাই তার ইঙ্গিত। রাজ্যের এই নিয়োগ জট কবে খুলবে, এবং যোগ্য প্রার্থীরা কবে তাঁদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।