বন্ধ রাস্তা-দোকানপাট, শিক্ষকদের নবান্ন অভিযানের খেসারত গুণছেন সাধারণ মানুষরা

চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নবান্ন অভিযানের জেরে সোমবার দিনভর চরম ভোগান্তির শিকার হলেন হাওড়া শহরবাসী। শহরের প্রধান কেন্দ্রস্থল হাওড়া ময়দান সংলগ্ন এলাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। গন্ডগোলের আশঙ্কায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল, যার জেরে ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মঙ্গলাহাটে ব্যবসার মার
প্রতি মঙ্গলবার হাওড়া ময়দান এলাকায় যে জনপ্রিয় জামা-কাপড়ের হাট বসে, তা মঙ্গলাহাট নামে পরিচিত। মঙ্গলবার ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকায় ভিন রাজ্যের বড় বড় ব্যবসায়ীরা সাধারণত সোমবার থেকেই কেনাকাটা করতে আসেন। কিন্তু সোমবার নবান্ন অভিযানের কারণে মঙ্গলাহাটে ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ছিল।

হাওড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রাজকুমার সাহা জানান, “নবান্ন অভিযানের ফলে এ দিন মঙ্গলাহাটের ব্যবসা পুরোপুরি মার খেয়েছে। যাঁরা ফুটপাতে বসে ব্যবসা করেন, তাঁদের অনেকেই বসতে পারেননি। জিটি রোডের ধারে কয়েকশো বড় দোকান বন্ধ ছিল। ক্রেতারাও আসতে পারেননি।” তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন যেন হাটের দিনে নবান্ন অভিযানের অনুমতি না দেওয়া হয়, অথবা ব্যারিকেডগুলো কাজীপাড়ার কাছে স্থাপন করা হয়, যাতে মঙ্গলাহাটের ব্যবসা বিঘ্নিত না হয়।

যানজটে নাকাল সাধারণ মানুষ
মিছিল আটকাতে হাওড়া শহরের একাধিক রাস্তায় পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করেছিল, যার ফলে ভয়াবহ যানজটে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর মহাকরণ থেকে নবান্নে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে এরকম রাজনৈতিক কর্মসূচি লেগেই রয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে হাওড়ার মানুষকে। মিটিং-মিছিলের জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে হাওড়া শহর।

সকাল থেকেই অবরুদ্ধ হাওড়া
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১১টা থেকে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এরও প্রায় দু-তিন ঘণ্টা আগে থেকেই হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ড, হাওড়া ময়দান সহ নবান্নমুখী রাস্তাগুলিতে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। এই ব্যারিকেডের রেশ ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাওড়া শহরে।

হাওড়া ময়দান শহরের ভরকেন্দ্র হওয়ায় সেখান দিয়েই প্রায় সমস্ত রুটের গাড়ি চলাচল করে। সেই রাস্তা বন্ধ থাকায় অন্য রাস্তাগুলোতেও যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। জিটি রোডের ওপর মল্লিক ফটকের সামনে এবং হাওড়া পুরসভার সামনে ১০ ফুট উঁচু লোহার রেলিং দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। বঙ্কিম সেতুর নিচে, বঙ্কিম সেতু থেকে হাওড়ার ডিএম বাংলোর দিকে নামার মুখে, কাজীপাড়া এবং শিবপুর বিদ্যাসাগর সেতুতেও ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। হাওড়া স্টেশন থেকে ফোরশোর রোডের দিকে যাওয়ার মুখেও ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়, যাতে কেউ নবান্নের দিকে এগোতে না পারেন।

আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার কোনো চেষ্টা না করলেও, প্রশ্ন উঠছে যে ছোট-বড় যে কোনো সংগঠন নবান্ন অভিযানের ডাক দিলেই গোটা হাওড়া শহরকে অবরুদ্ধ করে এভাবে ব্যারিকেড দেওয়ার কি আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে?

হাওড়া ময়দানের বাসিন্দা অর্চনা দাস বলেন, “ঠিক যখন অফিস বেরোতে যাব, তখনই রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হলো। হাওড়া বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে তারপরে হাওড়া ব্রিজের মুখ থেকে গাড়ি পাই। তার ফলে অফিস যেতে আমার অনেকটাই দেরি হয়েছে। যেদিন থেকে নবান্ন চালু হয়েছে, হাওড়ার মানুষকে এই যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে।”

এই পরিস্থিতিতে হাওড়ার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য কীভাবে স্বাভাবিক থাকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।