“বাংলায় বাড়ছে কর্মসংস্থান”-মানছে কেন্দ্রীয় নীতি আয়োগও, অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রী মমতার

দিন চারেক আগে বাংলার মানচিত্র ভুল দেখানোর জন্য নীতি আয়োগকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সেই নীতি আয়োগেরই বার্ষিক রিপোর্টকে হাতিয়ার করে বাংলার সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই রিপোর্টে কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে একাধিক ক্ষেত্রে বাংলার অগ্রগতির মান্যতা পাওয়ায় রাজ্যের বাসিন্দা এবং এই কর্মযজ্ঞে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

বেকারত্ব হ্রাসে জাতীয় গড়ের চেয়ে এগিয়ে বাংলা
গত কয়েক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম করে বলে আসছেন যে, বাংলায় বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নীতি আয়োগের ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের বার্ষিক রিপোর্টে সেই তথ্যেরই মান্যতা মিলেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই সময়ে বাংলার বার্ষিক বেকারত্বের হার ছিল মাত্র ২.২ শতাংশ। এটি দেশের গড় বেকারত্ব ৩.২ শতাংশের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম, যা রাজ্যের জন্য এক বড় সাফল্য।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, রাজ্যে বড় কল-কারখানার সংখ্যা সেই হারে না বাড়লেও, ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি শিল্পে বাংলা গত কয়েক বছর ধরে প্রথম স্থানে রয়েছে। এর পাশাপাশি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যার নিরিখেও রাজ্য দেশের মধ্যে শীর্ষে। এই কারণগুলির জন্যই রাজ্যে বেকারত্বের হার অনেকটা কমেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নীতি আয়োগের এই রিপোর্ট রাজ্যের কর্মসংস্থানের বার্তাকে আরও মজবুত করল। মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “কর্মসংস্থান ছাড়াও নীতি আয়োগের সামারি রিপোর্টে রাজ্যের আরও বিভিন্ন ইতিবাচক দিকের উল্লেখ রয়েছে।”

সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলার অগ্রগতি
নীতি আয়োগের রিপোর্টে শুধু কর্মসংস্থান নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বাংলার ধারাবাহিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে:

সাক্ষরতার হার: ২০১১ সালের আদমসুমারী অনুযায়ী বাংলার সাক্ষরতার হার ছিল ৭৬.৩ শতাংশ, যা দেশের গড় সাক্ষরতা হার ৭৩ শতাংশের তুলনায় বেশি।

শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য: দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে জাতীয় গড়ের তুলনায় বাংলায় পাশের হার বেশি এবং স্কুলছুটের হারও কম।

গড় আয়ু: ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী রাজ্যের বাসিন্দাদের গড় আয়ু ৭২.৩ বছর, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

লিঙ্গ অনুপাত: পুরুষ-নারীর অনুপাতও জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই ভালো। রাজ্যে প্রতি হাজার পুরুষে নারীর অনুপাত ৯৭৩।

শিশুমৃত্যুর হার: ২০২০ সালের হিসেবে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ১৯, যা ইতিবাচক পরিবর্তন নির্দেশ করে।

পরিকাঠামো: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পানীয় জলের মতো পরিকাঠামোতেও রাজ্য জাতীয় হারের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে।

এই রিপোর্ট বাংলার সার্বিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতিকে তুলে ধরেছে, যা নিঃসন্দেহে রাজ্য সরকারের জন্য এক বড় স্বীকৃতি।