৭১টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বেঁধে দিল কেন্দ্র, জেনে নিন নতুন দাম

মূল্যবৃদ্ধির বাজারে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে ওষুধের দামও আকাশ ছুঁচ্ছিল, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ক্যানসার, ডায়াবেটিসের মতো প্রাণদায়ী ওষুধ সহ ৭১টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বেঁধে দিল কেন্দ্র। ‘ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি’ (NPPA) এই নতুন মূল্য ধার্য করেছে, যা গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

কোন কোন ওষুধের দাম কমল?
জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, রিলায়েন্স লাইফ সায়েন্সেস সংস্থা ‘ট্রাস্টুজ়ুমাব’ নামে একটি ওষুধ তৈরি করে, যা মেলাস্ট্যাটিক স্তন ক্যানসার এবং গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। গত ৪ জুলাই প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এই ওষুধটির দাম প্রতি ভায়াল পিছু ১১ হাজার ৯৬৬ টাকা ধার্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পেপটিক আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় টরেন্ট ফার্মাসিউটিক্যাল্‌স-এর একটি ওষুধ, যা ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, এসোমেপ্রাজল এবং অ্যামোক্সিসিলিনের মিশ্রণে তৈরি। এই ওষুধের প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম পড়বে মাত্র ১৬২ টাকা ৫০ পয়সা।

এছাড়াও, ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশ কিছু সংস্থার ২৫টি ওষুধেরও দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় সিটাগ্লিপ্টিনও রয়েছে। এমনকি কিছু সংস্থার তৈরি প্যারাসিটামল ওষুধেরও নতুন দাম ধার্য করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০১৩ সালের ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ বিধি মেনেই এই নতুন দাম স্থির করা হয়েছে।

কেন এই পদক্ষেপ?
উল্লেখ্য, চলতি বছরে দেশে ৭৪৮টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছিল কেন্দ্র। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে প্রাণদায়ী ওষুধের এমন লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধিতে আমজনতার মাথায় হাত পড়েছিল এবং বিভিন্ন বিরোধীদল কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা করেছিল। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘব করতেই কেন্দ্র এবার এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল, যা নিঃসন্দেহে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।