ভয়ঙ্কর! রাত ১টায় স্ত্রীকে করেছিলেন ফোন…পাটনায় ব্যাংক ম্যানেজারকে কুয়োয় ফেলে খুন

বিহারে অপরাধের ঘটনা যেন থামছেই না। যখন তেজস্বী যাদব ও রাহুল গান্ধী রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নীতীশ সরকারকে কোণঠাসা করছেন, ঠিক তখনই পাটনা থেকে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এলো। পাটনার কঙ্করবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার অভিষেক বরুণের মৃতদেহ রহস্যজনক পরিস্থিতিতে একটি কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পার্টি থেকে বাড়ি ফেরার পথে রহস্যজনক অন্তর্ধান
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে অভিষেক তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রামকৃষ্ণ নগর এলাকায় এক পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন। রাত প্রায় ১০টা নাগাদ তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়ি পাঠিয়ে নিজে পার্টিতে থেকে যান। রাত ১টার সময় তিনি স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং জানান যে তার এক্সিডেন্ট হয়েছে। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা রাতভর তাকে খুঁজেছেন, হাসপাতালেও খোঁজ নিয়েছেন, কিন্তু কোথাও তার খোঁজ মেলেনি। অবশেষে আজ সকালে বেউর জেল এলাকার একটি কুয়ো থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

‘বিহারে গুন্ডারাজ’ পোস্টার ও বিরোধী দলের আক্রমণ
এই ঘটনার পর কঙ্করবাগ থানায় এফআইআর নম্বর ৬৪২/২৫ অনুযায়ী একটি নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত হয়েছিল। এখন মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সবদিক থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

অভিষেকের এই খুনের ঘটনা বিহারে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তালিকায় নতুন সংযোজন। এর আগে শিল্পপতি গোপাল খেমকা, ব্যবসায়ী দীপক শাহ, মার্টের মালিক বিক্রম ঝা, শিক্ষক সন্তোষ রায়, বালু ব্যবসায়ী রমাকান্ত যাদব, ব্যবসায়ী পুট্টু খান, আইনজীবী জিতেন্দ্র মেহতাসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির খুনের ঘটনা ঘটেছে।

এই ধরনের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পর পাটনার বিভিন্ন মোড়ে ‘বিহারে গুন্ডারাজ’ লেখা পোস্টার লাগানো হয়েছে, যাতে আটটি হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ রয়েছে। জেপি গোলাম্বর, ইনকাম ট্যাক্স চৌরাস্তা, বোরিং রোড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসব পোস্টার দেখা গেছে। পোস্টারগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর ছবি রয়েছে এবং মাঝখানে লেখা— ‘বিহারে গুন্ডারাজ, ব্যবসায়ীদের উপর অত্যাচার’। পোস্টারে আটটি হত্যাকাণ্ডের তারিখ ও নিহতদের ছবি যুক্ত রয়েছে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা অবশ্য উল্লেখ নেই।

বিরোধীদের আক্রমণের মুখে সরকার
কংগ্রেস নেতা কৃষ্ণা অল্লাভারু বলেছেন, “বিহার এখন দেশের ক্রাইম ক্যাপিটাল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থার জন্য দায়ী বর্তমান বিজেপি পরিচালিত সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার অসুস্থ হওয়ার পর থেকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।” সোমবার লোকসভায়ও রাহুল গান্ধী বিহারের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

অভিষেকের এই খুনের ঘটনা বিহারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং শাসক দলের উপর বিরোধীদের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কী উঠে আসে এবং সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।