সিগারেটের মতোই বিপজ্জনক শিঙাড়া-জিলিপি! অস্বাস্থ্যকর খাবারে নজর কেন্দ্রের, জারি নতুন ফরমান

সিগারেটের প্যাকেটে যেমন ‘তামাকজাত দ্রব্য সেবন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর’ লেখা থাকে, এবার ঠিক একইরকম বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ দেখা যেতে পারে শিঙাড়া, জিলিপি, পকোড়া বা বড়া পাওয়ের মতো জনপ্রিয় ফাস্ট ফুডগুলিতেও! শুধু তাই নয়, চা-বিস্কুটের মতো নিত্যদিনের খাবারেও এই সতর্কীকরণ থাকতে পারে। অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে স্বয়ং কেন্দ্রীয় সরকার, যার সাম্প্রতিক ঘোষণাও তাদেরই তরফে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সম্প্রতি সমস্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নতুন ফরমান জারি করেছে। এই ফরমান অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের জিলিপি-শিঙাড়ার মতো খাবার খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে বলা হয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবারে ঠিক কত পরিমাণ ক্যালোরি, কতটা চিনি কিংবা কী পরিমাণ ট্রান্স-ফ্যাট রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। ক্যান্টিনগুলিতে এই সংক্রান্ত পোস্টারও টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রথমেই এইমস নাগপুরে চালু:

সবার প্রথমে এইমস নাগপুর ক্যাম্পাসে এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের অন্তর্গত ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য খাওয়ার জায়গাগুলিতে ফুড কাউন্টারগুলির ঠিক পাশেই সতর্কতামূলক পোস্টার টাঙানো হয়েছে, যাতে খেতে বসলেই তা সবার চোখে পড়ে। পরবর্তীতে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এই বিষয়টি চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা কিন্তু এই ধরনের খাবারের বিক্রির উপর কোনও রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি, বরং শুধু সচেতনতা বৃদ্ধিই তাদের লক্ষ্য।

কেন এই উদ্যোগ?

বস্তুত, কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগের মূল কারণ হলো, দেশে বর্তমানে স্থূলতা (obesity), ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ (high blood pressure) এবং হার্টের রোগের সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। ‘ল্যানসেট জার্নাল’-এর তথ্য বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে অন্তত ৪৪০ মিলিয়ন ভারতবাসী স্থূলতায় আক্রান্ত হবেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই স্বাস্থ্য মন্ত্রক সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।