মর্নিংওয়াকে বেরিয়ে চলে গেলেন ‘না ফেরার দেশে’, হায়দরাবাদের সিপিআই নেতাকে গুলি করে খুন!

হায়দ্রাবাদের শালিভাহানা নগর পার্কে সকালে হাঁটতে বেরিয়ে আততায়ীদের গুলিতে নির্মমভাবে খুন হলেন সিপিআই নেতা চান্দু রাঠোর। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যা শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকাশ্যে গুলি, আততায়ীদের পলায়ন
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তিন থেকে চারজনের একটি দল একটি মারুতি সুইফট গাড়িতে করে পার্কে আসে। পার্কে তখন প্রায় ১২-১৩ জন সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সিপিআই হায়দ্রাবাদ সিটি কমিটির সদস্য চান্দু রাঠোরের চোখে প্রথমে লঙ্কার গুঁড়ো ছুড়ে দেওয়া হয়, এরপর খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
হামলার পর আততায়ীরা দ্রুত গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। দিনের আলোয়, পার্কে এতজন মানুষ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আততায়ীরা যে এত নির্ভয়ে হামলা চালিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, তাতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসন রীতিমতো হতবাক।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এল পুরনো বিবাদের সূত্র
মালাকপেট থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছেন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক এবং ফরেনসিক দল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, নিহত চান্দু রাঠোরের সঙ্গে দেবরুপ্পালার সিপিআই(এমএল) সদস্য রাজেশ নামে এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। নিহত নেতার স্ত্রী পুলিশকে এই তথ্য দিয়েছেন। ফলে তদন্তের নজর এখন সেই বিবাদের দিকেও রয়েছে।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সম্ভাবনা
জানা গিয়েছে, চান্দু রাঠোর মূলত নাগারকর্ণুল জেলার বালামুরু মণ্ডলের নারসাইপল্লি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে হায়দ্রাবাদের চৈতন্যপুরীতে বসবাস করছিলেন। তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের একাংশ মনে করছে। এই খুনের নেপথ্যে জমিজমা সংক্রান্ত কোনও বিরোধ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এলাকায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনা হায়দ্রাবাদে রাজনৈতিক হিংসা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।