বাংলার এই গ্রামে তুমুল ঘূর্ণিঝড়? ৩ মিনিটের ধংস্ব লীলায় গাছ-বাড়ি লন্ডভন্ড, এলাকায় নেই বিদ্যুত্

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট। সাধারণ নিম্নচাপের বৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির কুমড়োপাড়া গ্রামে আচমকাই নেমে এলো এক ভয়াবহ ঝড়। মাত্র তিন মিনিটের এই আকস্মিক তাণ্ডবে গোটা গ্রাম তছনছ হয়ে গেছে, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝড়ের দাপট এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে বড় বড় গাছ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। সেই ভেঙে পড়া গাছে জড়িয়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক বাড়ির অ্যাসবেস্টাসের চাল উড়ে গেছে এবং কুমড়োপাড়ার বেশ কিছু মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা এই আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত।
এক গৃহবধূ নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, “হঠাৎ এমন ঝড় হবে বুঝতেই পারিনি। বাড়ির অ্যাসবেস্টাসের চাল সব ভেঙে উড়ে গেল। এখন মাথার উপর ছাদ নেই।”
ঝড়ের পর দেখা যায়, কুমড়োপাড়ার রাস্তার উপর বড় বড় গাছ পড়ে আছে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তবে স্থানীয়রা নিজেরাই গাছ সরানোর কাজে নেমে পড়েছেন। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁরা রাস্তা পরিষ্কার করতে শুরু করেছেন, যা এই দুর্দিনে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এদিকে, গাছ ভেঙে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
গ্রামের মানুষ জানান, এমন ভয়াবহ তিন মিনিটের ঝড় এর আগে তাঁরা কখনও দেখেননি। এই ঝড়ের পর থেকে এলাকায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে, কারণ আচমকা ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে, এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।