কেরালায় সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক-মেয়রের অভিনব বিয়ে, নজর কাড়ল সকলের

এক বিয়েতে একাধিক দৃষ্টান্ত স্থাপন। প্রথমত, পাত্রী দেশের কনিষ্ঠতম মেয়র, পাত্র ভারতের কেরালার কনিষ্ঠতম বিধায়ক (এমএলএ)। তারা একে অপরের গলায় চেনা রজনীগন্ধা বা অন্য সাদা ফুলের মালা নয়, বরং টকটকে লাল রঙের মালা পরিয়ে চমকে দিলেন সবাইকে। বলা বাহুল্য, বাম রাজনীতির রঙকে নিজেদের বিয়েতে অগ্রাধীকার দিলেন এই তরুণ যুগল।

এছাড়াও আমন্ত্রণপত্রে অতিথিদের উপহার আনতে নিষেধ করেন তারা। এর পরিবর্তে অভিনব অনুরোধ করেন এই দম্পতি।

সেই অনুরোধের কথা জানার আগে জেনে নেওয়া যাক তাদের বিস্তারিত পরিচয়। দেশের কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে রেকর্ড গড়া সিপিএম (মার্কসবাদী) নেত্রী হলেন আর্য রাজেন্দ্রন। ২০২০ সালে ২১ বছর বয়সে কেরালার তিরুঅনন্তপুরমের মেয়র হন তিনি। অন্যদিকে পাত্র কেরালার কনিষ্ঠতম বিধায়ক তথা সিপিএমের ছাত্রসংগঠন এসএফআইয়ের নেতা সচিন দেব। কোঝিকোড় জেলার বালুসেরি কেন্দ্র থেকে ২০২১ সালে প্রথমবার বিধানসভা ভোটে জেতেন এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সচিন।

ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানায়, রোবাবর (৪ সেপ্টম্বর) বিয়ে করেন আর্যা-সচিন। কেরালা সিপিএমের সদরদপ্তরে একেজি সেন্টারে তাদের বিয়ে হয়। মালা বদলের অনাড়ম্বর বিয়ে, কিন্তু নজর কাড়ে মালার রং। যা আদতে দলীয় পতাকার লাল। কে কবে নব বর-বধূর গলায় লাল মালা দেখেছে!

এছাড়া উপহার নিয়েও আর্যা ও সচিনের সিদ্ধান্তে আপ্লুত সবাই। আজকাল অনেকেই বিয়েতে উপহার নেন না। সে কথা আর্যা-সচিনও বলেছেন। তবে আমন্ত্রণপত্রে তারা জানিয়েছেন, তাদের উপহার না দিয়ে অতিথিরা যেন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল বা তিরুঅন্তপুরম পৌরসভা পরিচালিত বৃদ্ধাশ্রমে অনুদান দেন।

এর গত ফেব্রুয়ারিতেই দলীয় সহকর্মী সচিনকে বিয়ে করার ঘোষণা দেন আর্যা। এদিন তা সম্পন্ন করেন। দেশের কনিষ্ঠতম মেয়র আর্যা রাজেন্দ্রন ও কেরালার কনিষ্ঠতম বিধায়ক সচিন দেবের বিয়েতে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, দলের রাজ্য সম্পাদক গোবিন্দন মাস্টারসহ অন্য নেতারা। পরিবারের সদস্য এবং দলের নেতাদের উপস্থিতিতেই লালমালা বিনিময় করেন নবদম্পতি।