“মুদ্রাস্ফীতির হার ৬ বছরে সর্বনিম্ন”-জেনেনিন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কতটা কমেছে?

দেশের আম জনতার জন্য এল এক দারুণ সুখবর। জুন মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। সরকার কর্তৃক ঘোষিত ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) জুনে ২.১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মে মাসের ২.৮২ শতাংশের তুলনায় অনেকটাই কম। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দাম কমার ফলেই এই স্বস্তি মিলেছে বলে জানিয়েছে পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক।
সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য হ্রাসই CPI-এর এই পতনের প্রধান কারণ। জুন মাসে শাকসবজি, ডাল, মাংস, মাছ, শস্য, চিনি, মিষ্টি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য এবং মশলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেকটাই কমেছে। এই দাম কমা সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে স্বস্তি এনেছে।
২০১৯ সালের পর সর্বনিম্ন, আরবিআই-এর লক্ষ্যমাত্রার নিচে
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার মে মাসের তুলনায় ৭২ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। এটি ২০১৯ সালের জানুয়ারীর পর থেকে বার্ষিক ভিত্তিতে সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতি। সেইসঙ্গে, এটি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) মধ্যমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশের নিচে রয়েছে। টানা পঞ্চম মাস ধরে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি এই সীমার নিচে রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত। এছাড়াও, টানা অষ্টম মাসের জন্য খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ৬% ঊর্ধ্ব সীমার নিচে থেকেছে। গ্রামীণ মুদ্রাস্ফীতির হার -০.৯২% এবং শহরাঞ্চলে -১.২২%।
আরবিআই-এর অনুমান ও সুদের হারে প্রভাব
উল্লেখ্য, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এই বছরের শুরু থেকে টানা তিনবার সুদের হার কমিয়েছে। জুনে অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) সভায় রেপো রেট ৫০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে তা ৫.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। রেপো রেট কমানোর সময় আরবিআই জানিয়েছিল যে, মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এপ্রিল মাসে অর্থবছরের জন্য খুচরো মুদ্রাস্ফীতির (CPI) পূর্বাভাস ৪% থেকে কমিয়ে ৩.৭০%-এ সংশোধন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উন্নত সরবরাহ এবং সরকারের খাদ্য মজুদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলেই দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস (NSO) জানিয়েছে, “২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় ২০২৫ সালের জুন মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৭২ বেসিস পয়েন্ট (০.৭২ শতাংশ) কমেছে। এটি ২০১৯ সালের জানুয়ারীর পর সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতি।” জুন ছিল টানা দ্বিতীয় মাস যখন মুদ্রাস্ফীতির হার ৩% এর নিচে ছিল। এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারীতে এটি ১.৯৭ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছিল। এই বছরের মে মাসে খুচরো মূল্যস্ফীতি ছিল ২.৮২%, যেখানে ২০২৪ সালের জুনে এটি ছিল ৫.০৮%।
এই মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের ফলে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তি অনুভব করছেন।